
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত থেকে ১০টি স্থলমাইনের প্রেশার প্লেট (ট্রিগার অংশ) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উলুবনিয়া সীমান্ত এলাকায় এসব প্লেট উদ্ধার করা হয়।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উখিয়া-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, সীমান্ত এলাকা থেকে স্থলমাইনের প্রেশার প্লেটের মতো বেশ কয়েকটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলোতে আপাতত কোনো বিস্ফোরক নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পরীক্ষা করে প্লেটগুলোর কার্যকর ক্ষমতা খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি বলেন, সীমান্তে বিজিবির নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সন্দেহজনক এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এ খবরে সীমান্ত এলাকায় জনমনে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থলমাইন বিস্ফোরণ এবং ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে হতাহতের ঘটনাসহ সার্বিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা বিরাজ করছে।
গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইক্যং সীমান্তে ওপার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হন স্থানীয় জসিম উদ্দিনের কন্যা হুজাইফা আফনান (১২)। বর্তমানে সে ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনার পরদিন ১২ জানুয়ারি নাফ নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মাইন বিস্ফোরণে মোহাম্মদ হানিফ নামে এক যুবক গুরুতর আহত হন, এক পা হারিয়ে তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় জেলে মোহাম্মদ মোতালেব বলেন, আমরা নদীতে যাচ্ছি না অনেক দিন ধরে। ভয় লাগে কারণ কখন যে মাইনে পা পড়ে যায়, সেই চিন্তায় সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকি।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজালাল বলেন, এলাকার মানুষ আতংকে আছেন, কখন কি হয় বলা মুশকিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা বাড়িয়েছে, তারপরেও বিপদ বলে আসে না। হোয়াইক্যং সীমান্তে শান্তি ফিরে আসুক আমরা সেই প্রত্যাশা করি।
জানা গেছে, ওপারের রাখাইনে সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি ও রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জান্তার সঙ্গে লড়াইয়ের মাধ্যমে আরকান আর্মি ওপারের ২৭১ কিলোমিটার বাংলাদেশ-সংলগ্ন এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে। এরপর থেকে কার্যত মিয়ানমার প্রান্তে দেশটির জান্তা নিয়ন্ত্রিত সরকারি বাহিনীর কোনো অবস্থান নেই।
আমার বার্তা/এমই

