ই-পেপার মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩৩

মহাসংকটে দেশের গ্যাস খাত!

মোস্তফা সারোয়ার:
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১৬

সময় যনিয়ে আসছে একে একে সবপথ (বিকল্প) বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, মহাসংকটের দিকে এগিয়ে চলছে দেশের গ্যাস খাত। কোন ভাবেই গ্যাসের উৎপাদন ধ্বস ঠেকানো যাচ্ছে না, আবার চাইলেই আমদানি বাড়ানোর সুযোগও নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

দেশে এখনই গ্যাসের ভয়াবহ সংকট বিরাজ করছে। চাহিদার অর্ধেকও সরবরাহ দেওয়া যাচ্ছে না। প্রতি দিনেই ২০ থেকে ৩০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন কমে যাচ্ছে। সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শেষ ও ২০২৭ সালের শুরুর দিকে মহাবিপর্যয়ের শঙ্কা দেখছেন অনেকেই।

এক সময় দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে দৈনিক ২৮০০ মিলিয়নের মতো গ্যাস উৎপাদিত হলেও চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ১৭৪৬ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে এসেছে। সবচেয়ে শঙ্কার হচ্ছে দেশের বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার মজুদ ফুরিয়ে আসছে। দেশীয় উৎসের ৫০ শতাংশ যোগান আসছে ওই গ্যাস ফিল্ডটি থেকে। এক সময় ১৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হলেও গেল বছর ৮ নভেম্বর পাওয়া গেছে মাত্র ৮৪২ মিলিয়ন ঘনফুট। মজুদ কমে আসায় প্রতি দিনেই কমে আসছে উৎপাদন। গ্যাসক্ষেত্রটিতে প্রমাণিত ও সম্ভাব্য মিলে অবশিষ্ট মজুদ রয়েছে মাত্র ৯০০ বিলিয়ন ঘনফুট। দৈনিক প্রায় ১ বিসিএফ উত্তোলন করলে আড়াই বছর যাওয়ার কথা। কিন্তু খনির ক্ষেত্রে সরল সমীকরণ খাটে না, শতভাগ উত্তোলন আশা করা কঠিন। সে হিসেবে ২০২৭ সালের দিকে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। শঙ্কা সত্যি হলে দেশীয় উৎসের গ্যাস ১ হাজার মিলিয়নে নেমে আসবে।

পেট্রোবাংলার প্রাক্কলন বলছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে গ্যাসের চাহিদা ৪৫০০ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে। যদিও কেউ কেউ বলতে চান এখনই গ্যাসের প্রকৃত চাহিদা সাড়ে ৪ হাজারের মতো। প্রতিশ্রুত গ্রাহকের চাহিদা ৫৫০০ মিলিয়নের উপরে হলেও ঘাটতি কম দেখাতে কৌশল হিসেবে চাহিদা কম দেখানো হচ্ছে।

পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস উৎপাদন বিবরণী অনুযায়ী ৮ জানুয়ারি শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই গ্যাসের চাহিদা ছিল ২৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট। যার বিপরীতে মাত্র ৬৯৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। ওইদিন মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৫৭৮ মিলিয়ন ঘনফুট।

পেট্রোবাংলার একজন পদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার বার্তাকে বলেন ২০২৫ সালে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমেছে ২৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ১৬০ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০২৬ সালে আরও ১৫০ মিলিয়নের মতো কমে যাবে। বেশকিছু কূপ খনন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, এগুলো সফলভাবে করা গেলে যোগ-বিয়োগ করে ১৭০০ মিলিয়ন পাওয়ার আশা করছি। তবে ২০২৮ সালের দিকে বিবিয়ানার উৎপাদনে ব্যাপক ধ্বস নামতে পারে। ধ্বস সামাল দেওয়ার জন্য খুব বেশি বিকল্প আমাদের হাতে নেই।

ক্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম আমার বার্তাকে বলেন, বহুকাল থেকে বিবিয়ানার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ২০২৬ সালে গিয়ে এর উৎপাদনে ধ্বস নামতে পারে। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা আমলে নেওয়া হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত পেট্রোবাংলার এক কর্মকর্তা আমার বার্তাকে বলেন , দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন ও অনুসন্ধান জোরদার করার পাশাপাশি দ্রুততার সঙ্গে ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন নির্মাণ এবং আরেকটি এফএসআরইউ স্থাপন খুব জরুরি। ইতোমধ্যেই অনেক দেরি হয়ে গেছে, আর দেরি করলে সমুহ বিপদের শঙ্কা রয়েছে।

২০২৬-২৭ সালে গ্যাস সংকট নিয়ে অনেক দিন ধরেই আলোচনা চলছে। ঘাটতি সামাল দিতে আমদানির পথে পা বাড়িয়েছিল আগের সরকার। এ জন্য ভোমরা-খুলনা এবং বেনাপোল-খুলনা পাইপলাইন নির্মাণ করে ভারত থেকে গ্যাস আমদানি, মহেশখালীতে আরেকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ), মোংলায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছিল।

বিশেষ বিধান আইনের আওতায় মহেশখালীতে এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য সামিট গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। মোংলায় এফএসআরইউ স্থাপনের জন্য মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে চুক্তি চুড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। অন্তবর্তীকালীন সরকার দরপত্র ছাড়া দেওয়া ওই দুই প্রকল্প বাতিল করে দিয়েছে। একইসঙ্গে ভারত থেকে গ্যাস আমদানির পরিকল্পনাও বাতিল করা হয়। অন্যদিকে কোনই অগ্রগতি নেই ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনালের। দ্বীপ জেলা ভোলার উদ্বৃতব্ত গ্যাস ঢাকায় আনার প্রকল্প ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইনও আটকা প্রাক-সমীক্ষায়।

ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন কাজে ৫ বছরের ধাক্কা। একইভাবে এলএনজি টার্মিনালের করতে প্রয়োজন হবে ৮০মাসের বেশি। সংক্ষিপ্ত পথ এফএসআরইউ করতে গেলেও দরপত্র চুড়ান্তের পর কমপক্ষে ১৮ মাস লাগবে। অর্থাৎ ২০২৭ সাল পর্যন্ত এলএনজি আমদানি বাড়ানোর কোন পথ খোলা নেই, দামের ইস্যু বাদ দিলেও।

এই যখন পরিস্থিতি তখন শুধু এফএসআরইউ কিংবা এলএনজি টার্মিনাল হলেই আমদানি ইচ্ছামতো বাড়ানোর সুযোগ নেই। বর্তমানে দু’টি এফএসআরইউ দিয়ে ১১০০ মিলিয়ন আমদানি করা হচ্ছে, বাড়তি ৩০০ মিলিয়ন গ্যাস আমদানি করার সুযোগ রয়েছে।

এলএনজি আমদানি বাড়াতে গেলে মহেশখালী থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত নতুন পাইপলাইন স্থাপন করতে হবে। ওই প্রকল্পের জন্য ২৪ হাজার কোটি টাকার খরচ প্রাক্কলন করা হয়েছে। সেটিও অনেক সময় সাপেক্ষ এবং অর্থায়ন জটিলতায় রয়েছে।

এফএসআরইউ, পাইপলাইন, এলএনজি টার্মিনাল প্রকল্প নিয়ে কিছু উদ্যোগ দেখা গেলেও অর্থায়ন নিশ্চিত না হওয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে পারেনি অন্তবর্তীকালীন সরকার। যে কারণে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপরেই মহা চ্যালেঞ্জের মূখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুধু আমদানির অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নয়, এলএনজি চড়া দামও বড় বাঁধা হিসেবে সামনে আসবে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় উৎস থেকে মোট গ্যাসের গড় মূল্য পড়েছে ৩.৩৯ টাকা। আমদানিকৃত গ্যাসের গড়মূল্য পড়েছে ৬৮.৭১ টাকার মতো। মাত্র ২৭ শতাংশ গ্যাস আমদানির পর ৩.৩৯ টাকা দরের গ্যাসের দাম গিয়ে ঠেকেছে ২৪.৮২ টাকায়। বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়েও সামাল দেওয়া যাচ্ছে না, লোকসান বাড়ছে পেট্রোবাংলার।

প্রাথমিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মকবুল ই-এলাহী চৌধুরী আমার বার্তাকে বলেন, দীর্ঘদিনের পুঁঞ্জিভূত ঢিলেমির কারণে আজকে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে যথাযথ মনোযোগ না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ ছাড়া জীবন অচল, আর বিদ্যুৎ দিতে গেলে জ্বালানি লাগবেই।কিন্তু এলএনজি আমদানি করে কোনভাবেই সামাল দেওয়া সম্ভব না। পুরাতন কূপের সংস্কার করে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

বাপেক্সের সাবেক এমডি আমজাদ হোসেন বলেন, আমি মনে করি ভোলা থেকে পাইপ লাইন করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

দ্বীপজেলা ভোলাতে ৩টি গ্যাস ফিল্ড আবিস্কৃত হয়েছে। ৯টি কূপ খনন করা হয়েছে, যেগুলোর দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট।চাহিদা না থাকায় মাত্র ৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট (৮জানুয়ারি) উত্তোলন করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ১৫টি কূপ খননের লক্ষ্যে কাজ করছে পেট্রোবাংলা। পাইপলাইন বাস্তবায়ন ও প্রস্তাবিত কূপগুলো খনন শেষ করলে সেখান থেকে ৩০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব মনে করছে বাপেক্স।

ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস আনতে পাইপলাইন স্থাপনের বিষয়ে কয়েক দশক ধরেই আলোচনা চলে আসছে। ভোলা-বরিশাল-খুলনা পাইপলাইনের পরিকল্পনা থাকলেও রুট পরিবর্তন করে ভোলা-বরিশাল-ঢাকা করা হয়েছে। ভোলা-বরিশাল পাইপলাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ হয়েছে, বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। বলা যায় অর্থায়ন ইস্যু নিয়েই বিষয়টি ঝুলে রয়েছে এতোদিন। ৭ হাজার কোটি টাকার জন্য যখন পাইপলাইন আটকা, তখন এক কার্গো এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে ৬৪৯ কোটি টাকা (আগস্টের দরপত্র)।যা দেশের ১ দিনের সরবরাহের (৩০০০ মিলিয়ন) সমান।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ আমার বার্তাকে বলেন, সংশ্লিষ্টরা অনেকেই গ্যাসের বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।

আমার বার্তা/এমই

কুরিয়ার এজেন্ট থেকে শত কোটি টাকার মালিক কে এই কামাল

দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে চোরাচালান পণ্য পাচারের সিন্ডিকেটের সখ্যতায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বণে যাওয়া কে

আদানি পাওয়ারের বিদ্যুৎ চুক্তি: ভারতীয় করের বোঝাও বাংলাদেশের ওপর!

আদানি পাওয়ারের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের জন্য বাজারমূল্যের তুলনায় বেশি দাম দিতে হচ্ছে

অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রাসেল খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার প্রকৌশল বিভাগে বর্তমানে এক চরম অরাজকতা ও প্রশাসনিক অস্থিরতা

ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্র নীরব, ভাড়াটিয়া অসহায়

দেশের নগরজীবনে ভাড়াটিয়া শ্রেণি আজ সবচেয়ে বড় অথচ সবচেয়ে অসুরক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি। ঢাকা উত্তর সিটি
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে নিপাহ ভাইরাস, শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

এক কোটি লিটার সয়াবিন, ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

রাজনৈতিকভাবে চাপিয়ে দেওয়া নয়-ছয়ের সুদের হার আর ফিরবে না: গভর্নর

দুর্নীতির লাগাম কীভাবে টানতে হয় বিএনপি জানে: তারেক রহমান

মধ্যরাতেই আসবে অধিকাংশ আসনের ফল: ইসি আনোয়ারুল

সমাবেশ মঞ্চে তারেক রহমান, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে কাজ করার আহ্বান

পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার, উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণা চলছে: আনোয়ারুল

মহাসংকটে দেশের গ্যাস খাত!

তারেক রহমানের সম্মতিতেই পাটওয়ারীর ওপর হামলা: নাহিদ

আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল, বিসিবির প্রশ্নের মুখে আইসিসি

ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফে দুই কিশোর আহত

বাংলাদেশিদের জন্য ২ মাসের মধ্যে ভিসা চালুর আশ্বাস ওমানের

একুশে বইমেলা শুরু ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে, স্টল ভাড়া কমবে ২৫%

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে একমত দলগুলো: আলী রীয়াজ

বাংলাদেশের সাংবাদিকদের যে কারণে অ্যাক্রেডিটেশন দেয়নি আইসিসি

প্রশাসন কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: নুর

ময়মনসিংহে পৌঁছেছেন তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

আইসিসিকে বাংলাদেশ নিয়ে সিদ্ধান্ত রিভিউর অনুরোধ জামায়াত আমিরের