ই-পেপার শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২

ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই, তবে হাসিনাকে ফেরত দেওয়া উচিত

দ্য হিন্দুকে ফখরুল
আমার বার্তা অনলাইন:
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:১৯
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ–ভারতের সম্পর্ক কোনো একটি ইস্যুতে ‘বন্দী’ বা আটকে হয়ে থাকা উচিত না। গণ-আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করলেও তা ভারতের সঙ্গে বিস্তৃত সম্পর্ক গড়তে বাংলাদেশের পথে বাধা হবে না। এমনটাই বলেছেন বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঢাকার গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে যেসব প্রকল্প আছে, সেগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। ভারতের সঙ্গে উন্নয়ন অংশীদারত্বও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়ার জনদাবি রয়েছে। আমরা মনে করি, তাঁকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ভারতের। কিন্তু ভারত যদি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে না দেয়, তবুও তা বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্কসহ বিস্তৃত সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে বাধা হবে না। আমরা আরও ভালো সম্পর্ক গড়তে চাই।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভারত–বাংলাদেশের বৃহত্তর সম্পর্ক একটি মাত্র ইস্যুতে ‘বন্দী’ থাকা উচিত নয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ বারবার ভারতের কাছে শেখ হাসিনা ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে ফেরত দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু গত ১৭ মাসে ভারত এসব অনুরোধের কোনো জবাব দেয়নি। মির্জা ফখরুল বলেন, হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রিসভা এবং আমলাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং তা চলবে।

হাসিনা সরকারের আমলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতৃত্ব দেন মির্জা ফখরুল। সে সময় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসনে ছিলেন। তিনি বলেন, ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের কিছু জটিল ইস্যু আছে। তবে তা সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে ছাপিয়ে যাওয়া উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘আমেরিকা ও চীনের মধ্যে অনেক সমস্যা আছে। তবুও তারা একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে। ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কেও আমরা একটি ইস্যুতেই আটকে থাকতে পারি না।’

তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। ১৯৭৫ সালের আগস্টে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর, যখন শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা ভারতে অবস্থান করছিলেন, তখন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভারত সফর করেন। তিনি ঢাকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাইকে আতিথ্য দেন। পরে ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে তিনি দিল্লি সফর করে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় শেখ হাসিনা রাজনৈতিক আত্মপ্রকাশের জন্য দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটাই ছিল রাষ্ট্রনায়কসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি।’

তিনি বলেন, আগামী বছরের আগে গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়নের সময় ফারাক্কার পানির বিষয়টি সামনে আসবে। সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ও রয়েছে। এসব নিয়ে আলোচনা করতেই হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের কথা বলতে হবে (আলোচনা করতে হবে)। যারা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলে, তারা পাগলের মতো কথা বলে।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মিল রেখে মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে মত দেন। তিনি এরই মধ্যে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

তিনি বলেন, প্রতিশোধ ও সহিংসতা গণতান্ত্রিক পরিবেশ গড়ার জন্য ক্ষতিকর। ২০২৪ সালের আগস্টের সহিংস গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক সমঝোতা আনতে পারেনি। কারণ ‘অভ্যুত্থানের নেতারা অধ্যাপক ইউনূসকে বেছে নিয়েছিলেন।’ তিনি বলেন, অধ্যাপক ইউনূস সেই নির্দেশনার বাইরে যেতে পারেননি।

বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিকে তিনি এমন একটি সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেন, যার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশ বাণিজ্য, ব্যবসা, দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটাল অবকাঠামো খাতে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। তিনি বলেন, ‘ভারতের কারিগরি শিক্ষায় সম্পদ রয়েছে। আমাদের দেশে বিপুলসংখ্যক বেকার তরুণ আছে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের উপসাগরীয় দেশে চাকরি পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা নতুন সরকারকে সামলাতে হবে। বিভিন্ন মেগা প্রকল্প নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। কোনগুলো অপ্রয়োজনীয় বা অপচয়মূলক, তা দেখা হবে। তাঁর ভাষায়, ‘যেগুলো বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে, সেগুলো আমরা রাখব।’

আমার বার্তা/এমই

মির্জা আব্বাসকে সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের শারীরিক

সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মেলা পরিদর্শনে নাহিদ ইসলাম

সৌদি আরবের মদীনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক মেলায় বাংলাদেশ প্যাভেলিয়ন পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক

জামায়াত মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলে সংবিধান নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয় না: রাশেদ খান

সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে আরেকটি বিপ্লবের আহ্বান করে নতুন সংবিধান রচনা করতে বললেন

অভিভাবকদের গান-বাজনায় বাধ্য করা ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন: হেফাজত

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সংগীত শিক্ষা চালুর উদ্যোগকে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করার শামিল
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিটিভির ২১ কর্মকর্তার বিদেশ সফর সংক্রান্ত সংবাদটি অসত্য ও বানোয়াট

ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে আবারও চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

নবীনগরে অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই

নবীনগরের উরখলিয়া গ্রামের শান্তির লক্ষ্যে জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৬ শিশু হাসপাতালে

জ্বালানি নিয়ে বাস্তবে আতঙ্কের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি: বাণিজ্যমন্ত্রী

মির্জা আব্বাসকে সিসিইউ থেকে কেবিনে স্থানান্তর

পাকিস্তানের রাজধানীতে সব গণপরিবহনের ভাড়া ফ্রি ঘোষণা

চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই, রাস্তায় গলছে পিচ

কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ট্যুরিজম হাব হিসেবে গড়ার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

কতিপয় সিবিএ নেতা ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে দেশের ৫৫ ডিপোতে তেল চুরির আখড়া

সিরাজগঞ্জে চলন্ত বাসের চাকা ফেটে বিভাজকে ধাক্কা: নিহত ৩

যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

বিশ্বকাপ খেলার আশাভঙ্গ, অবসরের ইঙ্গিত তারকা ফরোয়ার্ডের

মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন ‘জান্তা প্রধান’ মিন অং হ্লাইং

বেগম জিয়ার আমলে মানুষ কেন ভালো থাকল, এই কারণে ১৭ বছর ভুগেছি: চিফ হুইপ

ইরানের সঙ্গে সমঝোতা, হরমুজ দিয়ে আগের চেয়ে বেশি জাহাজ চলছে

পাকিস্তানে এক রাতে ডিজেলের দাম বেড়ে দ্বিগুণ, পেট্রোল বাড়ল ৪৩ শতাংশ

তেল আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

কুয়েতের তেল শোধনাগারে আঘাত হানল ইরানি ড্রোন