
ইতিহাস, কিংবদন্তি আর রহস্যময় প্রেমের গল্পকে মঞ্চে তুলে আনছে নাট্যদল মেঘদূত নাট্য সম্প্রদায়। তাদের নতুন প্রযোজনা ‘শায়েস্তা খাঁর পরী’। এটি দলটির ২১তম মঞ্চপ্রযোজনা। আগামী ১৯ জানুয়ারি রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
ইসমাইল হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে নাট্যরূপ দিয়েছেন আবু সাঈদ তুলু। নির্দেশনায় রয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। নাটকটির গল্প আবর্তিত হয়েছে ঢাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা লালবাগ কেল্লাকে কেন্দ্র করে। সেখানে ইতিহাসের বাস্তবতা আর লোককথার কল্পনা মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অনির্বচনীয় আবেশ।
নির্দেশক শুভাশীষ দত্ত তন্ময় নাটকটির গল্প প্রসঙ্গে বলেন, ‘লালবাগ কেল্লার নির্মাতা ছিলেন শায়েস্তা খাঁ। এই কেল্লা শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, এর ভেতরে আছে অজানা গল্প আর অদৃশ্য অনুভূতির স্তর। কথিত আছে, কেল্লার পুকুরে নীল জোছনার রাতে এক নগ্নিকা পরী সাঁতার কাটে। সেই পরীর সঙ্গে দেখা যায় এক যুবক পাটুকে। পাটু আর পরীর সম্পর্ক কি প্রেম, নাকি ইতিহাসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা কোনো রহস্য- এই প্রশ্নই নাটকের মূল সুর।’
তিনি আরও জানান, ‘শায়েস্তা খাঁর পরী’ কেবল প্রেমের গল্প নয়; এটি ইতিহাস, ক্ষমতার রাজনীতি, মানুষের অন্তর্গত দ্বন্দ্ব ও সময়ের প্রবল গতির এক নাট্যরূপ। একটি কেল্লা, একজন শাসক, হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা এবং ইতিহাসের অদেখা অধ্যায়- এই চারটি উপাদান মিলেই গড়ে উঠেছে নাটকটির কাহিনি।
নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়, রেখা রানী গুণ, জয়া আহমেদ, দীপু মাহমুদ, শান্তনু সাহা, মোতালেব হোসেন, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী, সুধাংশু নাথ, পার্থ দেবনাথ, ফাহিমসহ আরও অনেকে।
মঞ্চ পরিকল্পনায় রয়েছেন ফজলে রাব্বি সুকর্ণ, আলোক পরিকল্পনায় পলাশ হেনড্রি সেন, পোশাক পরিকল্পনায় আইরিন পারভীন লোপা এবং সংগীত পরিচালনায় আছেন হামিদুর রহমান পাপ্পু।
ইতিহাসের অলিখিত অধ্যায় আর প্রেমের রহস্যময় ভাষ্য নিয়ে ‘শায়েস্তা খাঁর পরী’ দর্শকদের জন্য হয়ে উঠতে পারে এক ভিন্নমাত্রার নাট্যঅভিজ্ঞতা।
আমার বার্তা/এল/এমই

