
বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার প্রচলিত পণ্য বাণিজ্যের বাইরে এবার নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে উঠে এসেছে ‘হালাল অর্থনীতি’। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফ্যাশন, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা সরঞ্জাম, স্বাস্থ্যসেবা, ডিজিটাল প্রযুক্তি, হালাল অর্থায়ন ও পর্যটনসহ নানা খাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত লিসতিওয়াতি।
সোমবার (৮ জুন) রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ও ইন্দোনেশিয়ার উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, হালাল অর্থনীতি শুধু হালাল খাদ্য বা মাংসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর আওতায় পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, স্বাস্থ্যসেবা, মেডিকেল সরঞ্জাম, হালাল অর্থায়ন এবং পর্যটনের মতো বিস্তৃত খাত অন্তর্ভুক্ত। এসব খাতে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া যৌথভাবে কাজ করলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন গতি আসতে পারে।
তিনি জানান, আগামী ৮ থেকে ১২ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত হবে ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’। এতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করছি বাংলাদেশ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল এক্সপোতে অংশ নেবে। এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার দূতাবাস সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ডি-৮ হালাল এক্সপো কেবল একটি প্রদর্শনী নয়; এটি ডি-৮ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে হালাল ইকোসিস্টেম শক্তিশালী করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং নতুন অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম।
সভায় ‘ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬’ নিয়ে উপস্থাপনা করেন ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল কমিটি ফর ইসলামিক ইকোনমি অ্যান্ড ফাইন্যান্সের (কেএনইকেএস) ডিরেক্টর জেনারেল পুতু রাহউইধিয়াসা। তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া শুধু হালাল পণ্য রপ্তানিতে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ‘হালাল ভ্যালু চেইন’ গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণ করতে পারে।
তার উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে ২০২২ সালে ইন্দোনেশিয়া শীর্ষ ১০ রপ্তানিকারক দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। গ্লোবাল হালাল ইকোনমি ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনডেক্সে দেশটি বর্তমানে বিশ্বের ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। হালাল খাদ্য খাতে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান চতুর্থ এবং ফ্যাশন ও পোশাক খাতে ষষ্ঠ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হালাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় খাত হলো হালাল খাদ্য। ২০২৩ সালে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোতে এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ দশমিক ২৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে হালাল পোশাক খাতে ব্যয় ছিল ২৭৭ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, যার সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
ইন্দোনেশিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (আইবিসিসিআই) সভাপতি এবং এফবিসিসিআইর সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াদ আলী বলেন, ডি-৮ভুক্ত দেশগুলো কীভাবে তাদের বাণিজ্য ও দৈনন্দিন জীবনে হালাল পদ্ধতি অনুসরণ করছে, তা জানার অন্যতম সুযোগ এই এক্সপো। পাশাপাশি বাংলাদেশের হালাল সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও এটি সহায়ক হতে পারে।
এর আগে সভায় স্বাগত বক্তব্যে এফবিসিসিআইর মহাসচিব মো. আলমগীর বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তবে বাণিজ্যের ভারসাম্যে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে। তিনি মনে করেন, ডি-৮ হালাল এক্সপোর মতো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বহুমুখী হবে এবং হালাল অর্থনীতিকে কেন্দ্র করে নতুন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দল যাতে ডি-৮ হালাল এক্সপো ২০২৬-এ অংশ নিতে পারে, সে লক্ষ্যে এফবিসিসিআই আন্তরিকভাবে কাজ করবে।
সভায় বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা, সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা/এমই

