বর্ষাকালে যে ভাবে পরিচর্যা করবেন আপনার পোল্ট্রির

মার্চ এপ্রিল মাসে দিনে প্রচন্ড গরম হয় আবার ঝড়বৃষ্টি হয়।জুন মাসে পুরু বর্ষাকাল যা সেপ্টেম্বর -অক্টোবর পর্যন্ত চলে।

বর্ষাকালে ধকল বেশি পড়ার কারণঃ

যতক্ষণ বৃষ্টি হয় ততক্ষণ তাপ কম বৃষ্টি কমে গেলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়।আবার অনেক সময় গুমোটভাব থাকে।

বৃষ্টিপাত ও মেঘলা আবহাওয়ার জন্য আপেক্ষিক আদ্রতা ১০০% হয়ে যায়।

বৃষ্টির কারণে ফার্মে পর্দা দিয়ে আটকিয়ে রাখা হয় ফলে ভিতরে তাপমাত্রা বেড়ে যায় ও এমোনিয়া গ্যাস হয়।

বর্ষার পানিতে লিটার ভিজে এমোনিয়া গ্যাস হয় যার পাখি অসুস্থ হয়।

ভিজা লিটারে কৃমি ও কক্সিডিওসিস হয়।।

এ সময় পানিতে ইকলাই বেড়ে যায় তাছাড়া ছত্রাকের কারণে খাবারে মাইকোটক্সিন বেড়ে যায়।

সমস্যা ও সমাধানঃ

বাসস্থানঃ

ঘরের ছাদ,দেয়ালের ভাংগা,ফুটো ঠিক করতে হবে।

ঘরের ছাটা বা বাড়তি ছাদ ৩-৪ফুট হতে হবে যাতে বৃষ্টির পানি ভিতরে না যেতে পারে।

মেঝেতে যাতে কোন ছিদ্র বা গর্ত না থাকে এতে ইধুর বা সাপের উপদ্রত বেড়ে যাতে পারে।

বাহির থেকে ও নিচ থেকে যাতে পানি না ঢুকে।

২% কস্টিক সোডা দিয়ে ঘর,দেয়াল,মেঝে স্প্রে করতে হবে।

ফিউমিগেশন করলে কক্সিডিয়ার জীবানূ মারা যায়।

ফ্লোরে চুন দিয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।

লিটারঃ

ভিজা লিটার ছত্রাক বেড়ে,কৃমি,কক্সিডিয়া,এমোনিয়া বেড়ে যায় ফলে অন্যান্য রোগ গাম্বরু,রানিক্ষেত দেখা দেবে।

লিটার ভাল রাখার জন্য ৫০% তুষ ও ৫০% কাঠের গুড়া ব্যব হার করা উচিত।ছত্রাকের বৃদ্ধি রোধ করার জন্য ১০০ বর্গ ফুট জায়গার জন্য ১ কেজি তুতে ব্যবহার করতে হবে।তুতের পরিবর্তে জেনশন বায়োলেট ব্যব হার করা যায়।

লিটার ৩-৪দিন শুকিয়ে দেয়া উচিত।

মুরগির স ংখ্যা অনুযায়ী যদি জায়গা কম হয় তাহলে লিটার তাড়াতাড়ি ভিজে যায়।

লিটার রোজ উলটপালট করে দিতে হবে।

বায়ু চলাচলের ভাল ব্যবস্থা থাকতে হবে।

পানি ও পানির পাত্রঃ

পানির পাত্র ব্লিচিং বা ডিটারজেন্ট দিয়ে পাত্র ধুয়ে ব্যবহার করা উচিত,পারলে পরে তুতে দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করা ভাল।

পানিতে সমস্যা থাকলে ফিটকিরি দিয়ে ১০ ঘন্টা রাখার পর ব্লিচিং দিয়ে ৩০-৬০ রেখে দেয়ার পর ব্যবহার করা ভাল।এতে ইকলাই দূর হবে।

খাদ্য সংরক্ষণঃ

খাবার কখন ও মেঝেতে বা দেয়ালে হেলান দিয়ে রাখা যাবেনা।

কাঠের উপর রাখা উচিত।

প্রতিটন খাবারে ৫০০-১০০০ গ্রাম তুতে বা ৫০০গ্রাম জেনশান বায়োলেট দেয়া যায়।

বাতাস চলাচলঃ

সেডে যাতে বাতাস চলাচল করে সে ব্যবস্থা করতে হবে এতে ঘরের তাপমাত্রা ঠিক থাকবে।মুরগি উষ্ণ রক্তের প্রাণী তাই বেশি তাপ সহ্য করতে পারেনা।

৭০-৭৫ডিগ্রি ফারেনহাইট হল ভাল।

ঘরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা,আদ্রতা,এমোনিয়া,CO2 বের করার জন্য বাতাস চলাচল দরকার।আদ্র বাতাস লিটারের ক্ষতি করে।

বরষাকালীন রোগঃ

এমোনিয়ার গন্ধ,তাও ও আপেক্ষিক আদ্রতার জন্য মুরগির শ্বাসকষ্ট হয়।

এতে করে শাস তন্ত্রের ভাইরাস ও মাইকোপ্লাজমা আক্রমণ করে।

ভিজা লিটার থেকে ছত্রাক নিসৃত বিষ খেয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

কৃমি, আমাশয়,ডায়রিয়া দেখা যায়।

প্রতিকারঃ

তুতে ৫০গ্রাম

ভিনেগার ৪০০ এমএল

পানি ৬০০

এগুলো এক সাথে মিশিয়ে স্টক সলুশ্ন বানাতে হবে।

পরে ১০ এম এল ১ লিতার পানিতে মিশিয়ে ১দিন পর পর ৫-৭দিন দেয়া যায়।

ধকল কমানোর জন্য সি,এ ডিই ,লিভারটনিক দেয়া উচিত।

আমশয়ের ডোজ দেয়া উচিত।