বিশ্বকাপ ফাইনালের ঘাস বিক্রির টাকার ভাগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে তুলকালাম

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শেষ হলেও টুর্নামেন্ট ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়া মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ঘাস। বিশ্বকাপের স্মারক হিসেবে সেই ঘাস বিক্রি থেকে কোটি কোটি ডলার আয়ের পরিকল্পনা করেছে ফিফা। তবে সেই অর্থ কারা পাবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ।

নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি যৌথ আয়োজক কমিটি (NYNJWC26) জানিয়েছে, মেটলাইফ স্টেডিয়াম থেকে সরিয়ে নেওয়া প্রাকৃতিক ঘাস বিক্রির আয়ের বড় অংশ তারা পাবে। কমিটির দাবি, এই অর্থ অঞ্চলটির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে পুনঃবিনিয়োগ করা হবে।

ফিফা ঘোষণা দিয়েছে, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ঘাস ২,০২৬টি পৃথক টুকরো করে বিক্রি করা হবে। প্রতিটি টুকরো অ্যাক্রিলিকের কিউবের মধ্যে সংরক্ষিত থাকবে এবং সঙ্গে থাকবে একটি স্মারক ইউএসবি ড্রাইভ ও সত্যতা নিশ্চিতকারী সনদ। প্রতিটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫০ থেকে ৩,০০০ মার্কিন ডলার।

তবে এই পরিকল্পনায় আপত্তি তুলেছেন নিউ জার্সির গভর্নর মাইকি শেরিল। তার যুক্তি, বিশ্বকাপের জন্য মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অস্থায়ী প্রাকৃতিক ঘাস বসানো, নকশা তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণে নিউ জার্সি সরকার ১ কোটি ৩০ লাখ ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে। তাই ঘাস বিক্রির আর্থিক সুবিধার একটি অংশ রাজ্যের করদাতাদের প্রাপ্য।

একই সুরে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা মাইকেল ইনগানামর্ট পুরো প্রক্রিয়াকেই ‘অবৈধ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, সরকারি অর্থে তৈরি হওয়া এই ঘাস রাজ্যের সম্পত্তি। ফলে এটি বিক্রি বা অন্যভাবে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে রাজ্যের আইন ও সরকারি সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার নিয়ম মেনে চলতে হবে।

অন্যদিকে আয়োজক কমিটির মুখপাত্র নাটালি হ্যামিল্টন বলেছেন, ঘাসের মালিক নিউ জার্সি নয় এবং এটি বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় সব অনুমতিই তাদের রয়েছে। তার দাবি, আয়ের সিংহভাগ আয়োজক কমিটির কাছেই থাকবে, আর ফিফা কেবল লাইসেন্স-সংক্রান্ত একটি ছোট অংশ পাবে।

এদিকে রাজনৈতিক সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, ঘাস বিক্রির বাণিজ্যিক চুক্তিতে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান কিপস্টাব আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ পাবে। তবে এই বিষয়ে ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

উল্লেখ্য, নিউ জার্সিতে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের মোট আটটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে ফাইনালও ছিল। অন্যদিকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের কারণে তার রাজ্যে ২২৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কর রাজস্ব এসেছে। সেই সাফল্যের মাঝেই ফাইনালের ঐতিহাসিক ঘাস বিক্রির অর্থ নিয়ে নতুন বিতর্ক বিশ্বকাপ- পরবর্তী আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে।