মেসিদের প্রশংসা, কেইনদের তুলোধুনো– যা লিখেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

৬০ বছর পরেও দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা ফুরোল না ইংল্যান্ডের। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও ২-১ ব্যবধানে হেরে সেমিফাইনালেই তাদের দৌড় থেমেছে। টানা তৃতীয় ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে কামব্যাকের গল্প লিখল লিওনেল স্কালোনির দল। ফাইনালে ওঠার পথে তারা হৃদয় ভেঙেছে ইংলিশদের। যা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করলেও প্রতিপক্ষকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমগুলো।
৮৫ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের বুলেট গতির শট এবং যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্টিনেজের দারুণ এক হেডে জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার। দুই গোলেই অ্যাসিস্ট করেন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তার প্রশংসা ঝরছে প্রতিপক্ষ ইংলিশ মিডিয়ায়। দ্য গার্ডিয়ান লিখেছে, ‘শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডের হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা।’
দ্য সান শিরোনামে শব্দের খেলায় লিওনেল মেসির নাম ব্যবহার করে লেখে, ‘অ্যানাদার মেসি কুইলোম্বো’। পর্তুগিজ শব্দ কুইলোম্বোর মাধ্যমে মূলত মেসির নৈপুণ্যে প্রতিপক্ষের ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে নিমজ্জিত’ হওয়ার দিকে ইঙ্গিত দিচ্ছে। তাদের পূর্ণ শিরোনামে আরও উল্লেখ করা হয়– ‘যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্টিনেজের জয়সূচক গোলে থ্রি লায়ন্সের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দিল আর্জেন্টিনা।’
এছাড়া, ম্যাচ শেষে জিওভানি লো সেলসো যে ‘দ্য ফকল্যান্ডস আর্জেন্টাইন’ (ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে ট্যাবলয়েড পত্রিকাটি। তাদের ভাষ্য, ‘আর্জেন্টাইনদের ঔদ্ধত্য। ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করার পর “মালভিনাস আমাদের” লেখা পতাকা নিয়ে উদযাপন করায় ক্ষোভ।’
ডেইলি মেইল লিখেছে, ‘আর্জেন্টিনার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ায় ভেঙে পড়েছে ইংল্যান্ড। গ্যালারিতে ডেভিড বেকহ্যামকে বিধ্বস্ত দেখা গেছে, আর মাঠে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন খেলোয়াড়রা। থ্রি লায়ন্সের ১৯৬৬ সালের পর প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়েছে দুটি গোল।’
তাদের আরেকটি শিরোনাম ছিল ‘আটালান্টায় হৃদয়ভঙ্গ’, যেখানে প্রধান ছবিতে অশ্রুসিক্ত চোখ মুছতে দেখা যায় ডেভিড বেকহ্যামকে। ডেইলি মেইল আরও লিখেছে, ‘বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ফিফার নতুন নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তুলে হ্যারি কেইনকে লাল কার্ড দেখানোর চেষ্টা করায় আর্জেন্টিনার এক তারকাকে “করুণ” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।’ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ম্যাচ চলাকালে লিয়েন্দ্রো পারেদেস রেফারির কাছে এ ধরনের দাবি তুলেছিলেন।
বিবিসি তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে লিখেছে, ‘আর্জেন্টিনার কাছে হেরে সেমিফাইনাল থেকেই যন্ত্রণাদায়ক বিদায় ইংল্যান্ডের।’ প্রতিবেদনের সঙ্গে পরাজয়ের পর হ্যারি কেইনকে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়।
অন্যদিকে স্কাই স্পোর্টস লিখেছে, ‘৮৫ মিনিট, ৯০+২ মিনিট! শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপের স্বপ্নে ইতি টানলো।’ এ ছাড়া স্কাই স্পোর্টস ওয়েবসাইটের প্রধান প্রতিবেদনের প্রচ্ছদে জায়গা পান আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ, যাকে ম্যাচের অন্যতম নায়ক হিসেবে তুলে ধরা হয়।
‘নিদারুণ যন্ত্রণায় আমাদের অপেক্ষা বেড়েই চলেছে’- এমন শিরোনাম করেছে ডেইলি এক্সপ্রেস। হতাশাগ্রস্ত হ্যারি কেইনের শুয়ে থাকার একটি ছবি পুরো প্রথম পেজজুড়ে দিয়েছে পত্রিকাটি। এর সঙ্গে লিখেছে, আর্জেন্টিনার কাছে হেরে ১৯৬৬ সালের জয়ের পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন চূর্ণ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের হতাশা।
রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর বেলিংহ্যাম হতাশায় চোখ বন্ধ করে হাঁটু মুড়ে মাঠে বসে পড়েন। সেই ছবি দিয়ে ‘দ্য মিরর’ ব্যানার শিরোনাম লিখেছে এক শব্দে, ‘শ্যাটারড (চূর্ণ-বিচূর্ণ)’। লিড হারিয়ে ইংল্যান্ডের স্বপ্নের অশ্রুসিক্ত ইতি। এ ছাড়া ‘ডেইলি স্টার’ লিখেছে– ‘কেইনড বাই মেসি।’ অর্থাৎ মেসি-বাহিনীর কাছে বোতলবন্দী ছিলেন হ্যারি কেইন। তবে এখনও লায়ন্সদের নিয়ে গর্বিতবোধ করার কথাও জানিয়েছে গণমাধ্যমটি।
