বিসিবিতে হস্তক্ষেপ, ব্যর্থতা ও বিতর্কের কেন্দ্রে বুলবুল
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ বেড়েছে বলে অভিযোগ। আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সিদ্ধান্ত সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদকে মনোনয়ন এবং অপসারণ করার মতো বাজে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হয়ে। জাতীয় দলের সাবেক সতীর্থকে হটিয়ে সভাপতির আসনে বসেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বিসিবির নির্বাচনেও নগ্ন হস্তক্ষেপ ছিল সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টার। নির্বাচন বয়কট করা ক্লাব কর্মকর্তারা বুলবুলের দিকে আঙুল তুলেছিলেন। একটি পাঁচতারকা হোটেলে রাতে ভোট নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। নির্বাচনের মতো বিশ্বকাপ বয়কটেও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের ব্যর্থতা বড় হয়ে উঠেছে। একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয়েও সরকারকে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ক্রিকেট কূটনীতিতে আইসিসির সদস্য দেশগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানা গেছে। এককথায় ভুলের রাজ্যে বাস করছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
আইসিসির সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে লবিং না করা: বিসিবি কর্মকর্তারা বেশি বিস্মিত হয়েছেন শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের বিরোধিতা করায়। শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) সভাপতি শাম্মি সিলভা দেশটির মিডিয়াকে জানান, বিসিবি আগে থেকে যোগাযোগ না করায় সমর্থন দেননি। বিসিবির সাবেক পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি মনে করেন, ক্রিকেট কূটনীতিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।
৪ জানুয়ারির পর থেকে আমিনুল ইসলাম পাকিস্তান ছাড়া বাকি ক্রিকেটখেলুড়ে দেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেননি সমর্থন আদায় করে নিতে। বিশ্বকাপের থেকেও বিপিএলকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। ফলে শ্রীলঙ্কা বা ইংল্যান্ড গিয়ে লবিং করাকে গুরুত্ব দেননি। এমনকি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছিল না বিসিবির দিক থেকে। উল্টো প্রথম থেকে রাজনৈতিক নেতাদের মতো বক্তব্য দিয়ে গেছেন আমিনুল ইসলাম।
অতিরিক্ত পিসিবি নির্ভরশীলতা: পাকিস্তানের মিডিয়ায় নিউজ হয়েছে, বিসিবি থেকে পিসিবির কাছে কেবল সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও পাকিস্তান সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জিও টিভি উর্দু নিউজ করেছে। কূটনীতির চেয়ে রাজনীতি বড় হওয়ায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বেঁকে বসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ইস্যুতে পাকিস্তান সরাসরি যুক্ত হওয়ায় অন্য দেশের সমর্থন কমেছে বলেও দাবি আইসিসি কর্মকর্তাদের।
সরকারকে রাজি করাতে ব্যর্থ বিসিবি সভাপতি: বিশ্বকাপের মতো ইভেন্টে না খেললে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সে বিষয়গুলো সরকারকে বোঝাতে পারেননি বিসিবি সভাপতি। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে সভায় বোর্ড পরিচালকদের সবাইকে সম্পৃক্ত করা হয়নি। বিশ্বকাপ না খেলার ক্ষতিকর দিকটিও তুলে ধরেননি বলে জানা গেছে। ক্রিকেট বোর্ডের অন্য পরিচালকদের অন্ধকারে রেখে বেশির ভাগ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একা আমিনুল ইসলাম, যেটি পরিচালকদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিসিবির বর্তমান পরিচালনা পর্ষদে অভিজ্ঞ সংগঠক নেই বললে চলে। দেশের স্বার্থে সাবেক অভিজ্ঞ পরিচালকদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ারও প্রয়োজন বোধ করেননি বর্তমান সভাপতি, যেটি সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
আইসিসির বিরোধিতা করে নিয়ম ভেঙেছেন: সাধারণ সদস্য দেশ হিসেবে আইসিসির সমালোচনা করা গর্হিত অপরাধ। আমিনুল ইসলাম বুলবুল সেখানে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরোধিতা করেছেন প্রকাশ্যে। কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন ২২ জানুয়ারি ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে। তিনি বলেছেন, আইসিসি বাংলাদেশের সঙ্গে অবিচার করেছে। একটি দেশকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। বিসিবি সভাপতির এই বক্তব্য দেশের ক্রিকেটকে স্থায়ী ক্ষতির মুখে ফেলে দিতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্লাবগুলোর সঙ্গে দূরত্ব: বিসিবির নির্বাচন ঘিরে ঢাকার বেশির ভাগ ক্লাবের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। তারা নির্বাচন বয়কট করার পর জয়ী হয়ে আমিনুল ইসলাম ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেননি। উল্টো কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনকে বলেছেন, এত ছোট বিষয়টি নিয়ে তিনি ভাবেন না। সভাপতির এই বক্তব্যের পর উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। ক্লাব ক্রিকেটকে আমিনুল ইসলাম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করায় বিরোধ মেটার চেয়ে দূরত্ব বাড়িয়েছে। এই বিরোধ সহসা মেটার নয়; বরং বিরোধ বাড়াতে প্রথম বিভাগের ১২টি ক্লাব নিয়ে আংশিক লিগ করেছে।
ক্রিকেটারদের দাবি উপেক্ষা করা: দেশের ক্রিকেটারদের ভিলেন বানাতে চেষ্টা করছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পরিচালনা পর্ষদ। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ভারতের পরীক্ষিত দালাল হিসেবে উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট দেন এম নাজমুল ইসলাম। তিনি ক্রিকেটারদের নিয়ে কটু মন্তব্য করায় বিদ্রোহের সৃষ্টি হয়। এক দিনের জন্য বন্ধ থাকে বিপিএল। নাজমুল ইসলামকে শাস্তি দেওয়ার শর্তে ক্রিকেটারদের খেলায় ফেরালেও বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটি তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সূত্র : সমকাল
আমার বার্তা/জেইচ
