অ্যাশেজের শেষ দিনে রোমাঞ্চ, খাজার বিদায়ী টেস্টে অজিদের জয়

প্রকাশ : ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

১৫ বছর আগে সিডনিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের অভিষেক হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান তারকা উসমান খাজার। সেখানেই তিনি জাতীয় দলের শেষ ম্যাচটি খেলে ফেললেন। যদিও ব্যাট হাতে ম্যাচটি রাঙাতে পারেননি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আট হাজার রান করা এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। তবে অ্যাশেজের শেষ দিনে রোমাঞ্চ দেখেছে সিডনি। তাতে পূর্ণতা দিয়ে শেষ হাসি হাসলো স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ৫ উইকেটের জয়ে তারা ৪-১ ব্যবধানে এবারের অ্যাশেজ শেষ করল।

অ্যাশেজের ফল আগেই নির্ধারিত হয়েছিল অজিরা টানা তিন ম্যাচ জেতায়। মেলবোর্নে চতুর্থ টেস্ট জিতে ইংল্যান্ড কেবল হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে। চতুর্থ ম্যাচটি বিশেষ হয়ে ওঠে খাজার সুবাদে। একইসঙ্গে আগ্রহ ছিল ম্যাচটি পঞ্চম দিন পর্যন্ত গড়ায় কি না। কারণ আগের ৪ টেস্ট ১৩ দিনে শেষ হওয়ায় আর্থিক ও উইকেটজনিত ইমেজ সংকটে ভুগছিল অস্ট্রেলিয়া। সিরিজ শেষে সেই আক্ষেপ তাদের কিছুটা হলেও ঘুচলো।

সিডনি টেস্টে ইংল্যান্ডের হারটা চতুর্থ দিনেই প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কারণ ২ উইকেট হাতে রেখে তারা যখন দিন শেষ করছে, তাদের লিড তখন স্রেফ ১১৯ রান। যদিও সেঞ্চুরিয়ান জ্যাকব বেথেল ক্রিজে থাকায় পুঁজিটা হয়তো বড় হওয়ার প্রত্যাশা ছিল তাদের। ইংলিশরা শেষমেষ অস্ট্রেলিয়াকে ১৬০ রানের লক্ষ্য দেয়। ৬২ রানের ওপেনিং জুটিতে ট্রাভিস হেড ও জ্যাক ওয়েদারল্ড মিলে পথটা সহজ করে তোলেন। তবে পরবর্তী ৫৯ রানের ব্যবধানে অজিরা ৫ উইকেট হারানোয় খেলায় রোমাঞ্চ ফেরে। বাকি ৫ উইকেট হাতে রেখেই অবশ্য তারা ম্যাচটি জিতেছে।

রোমাঞ্চটা আরেকটু বাড়তে পারত ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস আরও লম্বা করতে পারলে। আগেরদিন ১৪২ রানে অপরাজিত থাকা জ্যাকব বেথেল আজ আর ১২ রান যোগ করতে পেরেছেন। ফলে দিনের প্রথম সেশনে ইংল্যান্ডও কেবল ১৩.২ ওভার পর্যন্ত টিকতে পেরেছে। ব্যাটিং সামর্থ্য থাকা ম্যাথু পটস অপরাজিত ছিলেন ১৮ রানে, আরেকপ্রান্তে জশ টাং আউট হওয়ায় ৩৪২ রানে অলআউট বেন স্টোকসের দল। দ্বিতীয় ইনিংসে সফরকারীদের সর্বোচ্চ রান করেন বেথেল, এ ছাড়া সমান ৪২ রান আসে বেন ডাকেট ও হ্যারি ব্রুকের ব্যাটে।

বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে এই ইনিংসে ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন ব্যু ওয়েবস্টার ও মিচেল স্টার্ক। বাকি ৩ উইকেটও গেছে পেসারদের (স্কট বোল্যান্ড ২ এবং মাইকেল নেসারের ১টি) দখলে। বোলারদের কল্যাণে লক্ষ্যটা তুলনামূলক নাগালেই পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাকি কাজ সেরেছেন হেড-লাবুশেনরা। যদিও বিদায়ী ম্যাচ খেলতে নামা খাজাকে ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে কি না সেই ধারণা তৈরি হয়েছিল। তবে এবারের অ্যাশেজে তাকে মিডল অর্ডারে খেলানোর রীতিই দেখা গেল আরেকবার।

হেড-ওয়েদারল্ড যথারীতি দ্রুত রান তোলার মিশনে নেমেছিলেন। ১০.২ ওভারে দুজন মিলে ৬২ রান যোগ করেন স্কোরবোর্ডে। আগের ইনিংসে ১৬৩ রান করা হেড এবার ফিরলেন ২৯ রানে। এ ছাড়া মার্নাস লাবুশেন ৩৭, ওয়েদারল্ড ৩৪ এবং ক্যামেরন গ্রিন অপরাজিত ২২ রান করলে অস্ট্রেলিয়া জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। শেষ টেস্টে আক্ষেপ নিয়েই ফিরলেন খাজা, দুই ইনিংসে ১৪ ও ৬ রান করেছেন তিনি। ইংল্যান্ডের জশ টাং ৩ ও ‍উইল জ্যাকস ১ উইকেট নিয়েছেন।

ম্যাচটি স্বাভাবিকভাবেই আবেগের ছিল উসমান খাজার জন্য। ৩৯ বছর বয়সী এই বাঁ-হাতি ব্যাটার শেষবার ব্যাটিংয়ে নামার সময় প্রতিপক্ষ ইংলিশ ক্রিকেটারদের কাছে গার্ড অব অনার পেয়েছেন। আর আউট হয়ে ফেরার সময় সিজদা দেন সিডনির সবুজ গালিচায়। করতালিতে তাকে বিদায়ী অভ্যর্থনা দিয়েছে পুরো গ্যালারি। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে খাজা ৮৮ টেস্ট, ৪০ ওয়ানডে এবং ৯টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। একটি ডাবল, ১৮ সেঞ্চুরি এবং ৪১ হাফসেঞ্চুরিতে সবমিলিয়ে করেছেন ৮০২৪ রান।


আমার বার্তা/জেএইচ