অবৈধ অর্থ লুকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালকের আবাসন ব্যবসা!

ভবন নির্মাণেও রয়েছে ভয়াবহ অনিয়ম 

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

  এ আর মোল্লা:

★ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নকশা জমা না দিয়েই বহুতল ভবন নির্মাণ। 
★ নোটিশ করা হয়েছে ও আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে, ইমারত পরিদর্শক তারিফ।
★ এটি ' সরকারি কর্মচারী আইন' এবং 'দূর্নীতি দমন কমিশন (দূদক) আইন' অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ, অপরাধ বিশেষজ্ঞ নূর হাকিম। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ এর পরিচালক শহীদ রেজার বিরুদ্ধে আবাসন নির্মাণ ব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। সূত্রে জানা যায়, চাকুরি বিধিমালা উপেক্ষা করে বোনের নামে হোমস এন্ড হার্ট লিমিটেড নামক একটি আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান খুলে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় আবাসন নির্মাণ ব্যবসা করে চলেছেন। এমনকি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নকশা জমা না দিয়েই বহুতল ভবন নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়েছেন অনেকদূর।

সরেজমিনে শহীদ রেজার নির্মাণাধীন আরএস দাগ নং-২২৩০২২৩১.২২৩৮.২২৩৯.২৩৪০.২৩০৩.২২৩৬.(P), এমএস দাগ নং-১৩৬৮৮.১৩৭১৩.১৩৭১৪.১৩৭১৫.(P), কাদেরাবাদ হাউজিং মেইন রোড কাটাসুর মোহাম্মদপুর ঢাকায় অনুসন্ধান করে দেখা যায়, ভবনটির নকশার স্মারক নাম্বার ২৫.৩৯০০০০.১১৪.৩৩.০১১.২২, তারিখ ০২/০৩/২০২৩। এছাড়া ভবনটিতে জি+৯ ও প্রতি তলায় ৭২৮.৬৯ বর্গমিটার নির্মাণের অনুমোদন রয়েছে। বাস্তবে ভবনটিতে ডেভিয়েশন করে প্রতি তলায় অনেক বেশি বর্গমিটার নির্মাণ করা হয়েছে। এমনকি আলো-বাতাস চলাচল ও দূর্যোগের সময় উদ্ধার তৎপরতার জন্য পর্যাপ্ত ফাঁকা জয়গা বা ভয়েড রাখা হয়নি।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ভবনটিতে নিন্মমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। ভবন নির্মাণে অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে বা ডেভিয়েশন করে প্রতি তলায় বর্গমিটার (আয়তন) বাড়ানো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ অনিরাপদ। নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীদের মতে, এই ধরনের অনিয়ম ভবনের কাঠামোগত স্থায়িত্বকে মারাত্নকভাবে হুমকির মুখে ফেলে এবং বড় ধরনের দূর্ঘটনার পথ তৈরি করে।

ভবনটি ব্যাপারে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইমারত পরিদর্শক তারিফ বলেন, নকশা চেয়ে নোটিশ করা হয়েছে ও আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক হয়ে আবাসন নির্মাণ ব্যবসা করার ব্যাপারে অপরাধ বিশেষজ্ঞ নূর হাকিম বলেন, এই ধরনের অননুমোদিত ব্যবসা মূলত অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থ (যেমন: ঘুস বা অনুপার্জিত আয়) বৈধ করার বা লুকাতে "শিল্ড" বা ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি 'সরকারি কর্মচারী আইন' এবং 'দূর্নীতি দমন কমিশন (দূদক) আইন' অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

ভবনের অনিয়মের ব্যাপারে মুখ না খুললেও আবাসন ব্যবসার কথা শহীদ রেজা অস্বীকার করে বলেন, এটি আমার বোনের ব্যবসা আমি শুধু এখানে একটি ফ্ল্যাট কিনেছি। কিন্তু হোম এন্ড হার্ট লিমিটেডের ম্যানেজার মোঃ মোকসেদ আহমেদ বলেন, এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক শহীদ রেজার নিজের প্রতিষ্ঠান। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকুরি করেন বিধায় প্রতিষ্ঠানটি তার বোনের নামে করেছেন। তবে সবকিছু তিনিই দেখাশোনা করেন।

শহীদ রেজার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের এখনো আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।