চাঁদনিঘাটে ভবন নির্মাণে মামুনের ভয়াবহ অনিয়ম
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৭:২১ | অনলাইন সংস্করণ
এ আর মোল্লা:
★ ৫/৬ ফুট চিপা রাস্তায় রাজউক কোনরূপ নকশার নকশার অনুমোদন দেয়না, সূত্র রাজউক।
★ এটি ফৌজদারি অপরাধ ও প্রশাসনিক অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এর ফলে অননুমোদিত অংশ ভেঙে ফেলা, বড় অংকের আর্থিক জরিমানা এবং সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে, সিনিয়র আইনজীবী জুলফিকার আলি।
★ ভবনটিতে নোটিশ করা হয়েছে। দ্রুত ভবনটিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে, ইমারত পরিদর্শক কিবরিয়া।
ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যেও রাজউক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও সঠিক নকশা না মেনে ভবন নির্মাণ করা একটি মারাত্মক অপরাধ। এই ধরনের ত্রুটিপূর্ণ ও অবৈধ নির্মাণ ভূমিকম্পের সময় ধসে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। তবুও মামুন বীরদর্পে চিপা গলিতে জননিরাপত্তাকে পাত্তা না দিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো বহুতল ভবন নির্মাণ করে চলেছেন। ওয়াটার ওয়ার্কাস রোড চাঁদনিঘাট টেম্পো ষ্ট্যান্ড পোস্তা লালবাগ ঢাকায় মামুনের নির্মাণাধীন ভবনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাজউকের শর্ত অমান্য করে তথ্য সংবলিত কোন সাইনবোর্ড দেয়া হয়নি। ফলে ভবনটির বিস্তারিত জানা না গেলেও আশেপাশে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আনুমানিক প্রায় পনে দুই কাঠা জায়গার উপর ৭ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনটির সামনে ৫/৬ ফুটের একটি চিপা রাস্তা রয়েছে। এছাড়া ভবনটি নির্মাণের ক্ষেত্রে তেমন কোন জায়গাই ছাড়া হয়নি। আনুমানিক ৯০% এর উপরে ভূমি ব্যবহার করা হয়েছে, ১০% এর মতো জায়গা ছাড়লেও তা ডেভিয়েশন করে পূর্ণ করা হয়েছে যা ভবনটিকে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। এছাড়া ভবনটিতে কর্মরত নির্মাণ শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিন্মমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে শুভঙ্করের ফাঁকি দেয়া হয়েছে। স্হানীয় বাসিন্দা রবিউল সরদারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এসব এলাকার অনেক জায়গাই এক সময় খাল-বিলের ভেতর ছিল। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী এসব জায়গা ভরাট করে রাজউকের অনুমোদন না নিয়েই ভবন নির্মাণ করেছে। মামুনও এলাকার অত্যন্ত প্রভালশালী ব্যক্তি। রাজউকের নিয়ম না মানলেও তাকে বাঁধা দেয়ার মতো ক্ষমতা কারো নেই। রাজউক সূত্রে জানা যায়, ৫/৬ ফুট চিপা রাস্তায় রাজউক কোনরূপ নকশার অনুমোদন দেয়না। সর্বনিম্ন ৮ ফুট চওড়া রাস্তা থাকলে পনে দুই কাঠা জায়গার উপর রাজউক ৫ তলা থেকে সর্বোচ্চ ৬ তলা পর্যন্ত নকশা দিতে পারে। রাজউক সূত্রে আরও জানা যায়, এতটুকু জায়গায় উপর নকশা পেলেও নকশা অনুযায়ী সর্বোচ্চ (৫০-৫২)% ভূমি ব্যবহার করতে পারবে, ৯০% ভূমি ব্যবহার করা মানে জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। ভবনটির ভয়াবহ অনিয়মের ব্যাপারে সিনিয়র আইনজীবী জুলফিকার আলির সাথে কথা বললে তিনি বলেন, এটি ফৌজদারি ও প্রশাসনিক অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এর ফলে অননুমোদিত অংশ ভেঙে ফেলা, বড় অংকের আর্থিক জরিমানা এবং সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মানুষের জীবন বা নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেললে অবহেলার কারণে মৃত্যুর অভিযোগে অতিরিক্ত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। ভবনটির বিভিন্ন অনিয়মের ব্যাপারে ভবন মালিক মামুনের মোবাইলে ফোন করলে, তিনি কোন মন্তব্য না করে উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনি ফোন দিয়েছেন কেন? আমি কে আপনি চিনেন? আপনার অফিস কোথায়? এভাবে প্রতিবেদককে শাসিয়ে ফোন রেখে দেন। ভবনটির ব্যাপারে রাজউকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইমারত পরিদর্শক কিবরিয়ার সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ভবনটিতে নোটিশ করা হয়েছে। দ্রুত ভবনটিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় চিঠি দিয়ে পরবর্তীতে আমার বার্তার পাঠকগণের ভবনটির ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানানো হবে।
