ভয়াবহ ডেভিয়েশনে ইঞ্জিনিয়ার কামালের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ 

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১৭:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

  এ আর মোল্লা:

ইঞ্জিনিয়ার কামাল উদ্দিন

★ আমার ভবনে ডেভিয়েশন থাকলেও কলামে ডেভিয়েশন নেই ইঞ্জিনিয়ার কামাল।
★ এ ধরনের ভবনগুলোতে যেকোন মূহুর্তে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ও প্রাণহানির মতো মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে, নগর পরিকল্পনাবিদ আরিফুর রহমান। 
★ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন ইমারত পরিদর্শক রাজিব। 

ভৌগোলিক অবস্থান ও ভূ-প্রাকৃতিক গঠনের কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত উচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ একটি অঞ্চল। ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মিজ এই তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে দেশটির অবস্থান হওয়ায় এখানে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশংকায় পুরো দেশ। ইতিমধ্যে রাজউকসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় একটি নাম সর্বস্ব ডেভেলপার কোম্পানি বাসন্তিকার মালিক ইঞ্জিনিয়ার কামাল উদ্দিন নকশাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে দাগ নং-৯৪৯(পি), আরএস ৮/৯(পি), এমএস দাগ-১২৭০৭(পি), মৌজা-বি, ভাটারা, গুলশান, ঢাকায় ভয়াবহ ডেভিয়েশন করে একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ করে চলেছেন বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। অভিযোগের ভিত্তিতে ভবনটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকের পূর্বশর্ত হলো তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড থাকতে হবে, সেটিই অমান্য করেছেন ইঞ্জিনিয়ার কামাল উদ্দিন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায় ভবনটি জি+৭ তলা হবে। কতটুকু ভূমি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে রাজউক তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড না থাকায় সেটা জানা না গেলেও প্রায় ৮০% এর বেশি ভূমি ব্যবহার করেছেন কামাল যা কোনভাবেই যুক্তিযুক্ত নয় বলে দাবি করেছেন রাজউকের একজন প্রধান ইমারত পরিদর্শক। এছাড়া ভবনটিতে কলামের বাইরে চারপাশে ৩/৪ ফুট করে অতিরিক্ত অংশ বা ডেভিয়েশন যা ভবনটির ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ভবনে একাধিক ভয়েড রাখতে হয় কিন্তু ভবনটিতে কোনরূপ ভয়েড রাখা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা লুৎফর জানান, কামাল উদ্দিন এলাকার প্রভাবশালী ব্যাক্তি তার বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ নেই তাই সরকারের কাছে কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের অপকর্ম বন্ধের দাবি করেছেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম সারির একটি ডেভেলপার কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার জানিয়েছেন, এ ধরনের নাম সর্বস্ব কোম্পানি সাধারণত অধিক মুনাফার চিন্তা করে, নাগরিক নিরাপত্তা ও সুবিধার বিষয়টি তাদের কাছে নগন্য। তাই রাজউকের উচিত এ ধরনের কোম্পানির নিবন্ধনই বাতিল করে দেয়া। ভয়াবহ ডেভিয়েশনে নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সম্পর্কে নগর পরিকল্পনাবিদ আরিফুর রহমান জানিয়েছেন, এ ধরনের ভবনগুলোতে যেকোন মুহূর্তে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ও প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এগুলো তদারকিতে সরকারি সংস্থাগুলোর চরম উদাসীনতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। কামাল উদ্দিনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে একাধিকবার তার মোবাইলে ফোন করলে তিনি অফিসে এসে স্বাক্ষাতে কথা বলবেন বলে কালক্ষেপণ করেন। তবে এক পর্যায়ে তিনি অফিসে এসে বলেন, আমার ভবনটিতে ডেভিয়েশন থাকলেও কলামে কোন ডেভিয়েশন নেই। আপনি আমার এলাকায় আসেন আমি আপনাকে দেখাবো অনেক ভবন কলামসহ ডেভিয়েশন আছে। ভবনটির ব্যাপারে রাজউক জোন- ৪/২ এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইমারত পরিদর্শক রাজিব আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন। তথ্য অধিকার আইনের আওতায় ভবনটির কিছু তথ্য চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তথ্যগুলো পেলে ভবনটির ব্যাপারে আমার বার্তার পাঠকগণের জন্য আরও বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।