রাজউকের নকশা না নিয়েই হেরিটেজের ভবন নির্মাণ

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৩, ১৬:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

  বিশেষ প্রতিনিধি

  • ইমারত নির্মাণ সুস্পষ্ট আইনের লঙ্ঘন
  • সাংবাদিককে মেরে ফেলার হুমকি 
  • সংশিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরী

ডেভেলপার কোম্পানি হেরিটেজ এসেটস লিমিটেড রাজধানীর শাহজাহানপুর, মালিবাগ, মগবাজার এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ করে চলেছেন। রাজউকের নিয়মনীতির কোন কিছুই তোয়াক্কা করছেন না তারা। মূলত প্রশাসনের একজন উর্ধতন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে এসব অপকর্ম বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছেন।

হেরিটেজের অপকর্মের সাথে জরিয়ে পড়েছেন রাজউকের সাবেক জোন ৬/১ এর সহকারী অথরাইজড অফিসার পলাশ সিকদার(বর্তমানে অথরাইজড অফিসার হিসেবে রাজউক উত্তরা জোনে কর্মরত)। 

তিনি হেরিটেজের পক্ষে রাজউকের দায়িত্বশীলদের প্রতিনিয়মিত চাপ প্রয়োগ করে চলেছেন। এমনকি রাজউকের সেই কর্মকর্তার পরামর্শে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রক্ষা ও পরিসমাপ্তি করতে ব্যবহার করছে হাইকোর্টের রীট।

একাধিক সূত্রের তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে, হেরিটেজ একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব অপকর্ম চালিয়ে আসলেও প্রতিকার নেই এমন চিত্রই ফুটে ওঠে। কথায় আছে জোর যার মুল্লুক তার, সকল নিয়মনীতি যেন তার কাছে পরাজয়।

কোন ভবন নির্মাণকাজ শুরুর ১৫ দিন পূর্বে রাজউককে লিখিতভাবে জানাতে হয় ও রাজউকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভবন নির্মাণকাজ শুরুর বাধ্যবাধকতা থাকলেও হেরিটেজ তা অমান্য করে আইন ভঙ্গ করেছে।

সম্প্রতি হেরিটেজ ৫০৫ নং উত্তর শাহজাহানপুর, উত্তরা ব্যাংকের গলি, শাহজাহানপুর নকশা না নিয়ে ও রাজউককে অবহিত না করে একটি দশতলা ভবনের বেজমেন্টের নির্মাণকাজ শেষ করেছেন। বর্তমানে ভবনটির একতলার নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।  

রাজউক সূত্রে জানা যায়, তারা ভবনটি নির্মাণের জন্য একটি নকশার আবেদন করেছেন (যার নথি নং ২৫.৩৯.০০০০.১২২.৩৩.১০৪৩.২২)। বর্তমানে এই নথিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে অর্থাৎ আবেদনকৃত নকশাটির এখনো অনুমোদন হয় নাই।

রাজউকের ইমারত নির্মাণ কমিটির অনুমোদিত নকশা না নিয়ে ইমারত নির্মাণ সুস্পষ্ট আইনের লঙ্ঘন। উক্ত হোল্ডিং এর উপর নির্মাণাধীন ইমারতের সকল প্রকার নির্মাণ/পুনঃনির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করার নির্দেশ প্রদান করেছে রাজউক।

কিন্তু হেরিটেজের মালিক এ. কে. এম শহীদুল আলম ও মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী এসব নির্দেশ উপেক্ষা করে তাদের ভবন নির্মাণকাজ অভ্যাহত রেখেছেন। 

এছাড়া ভবনটিতে অনুসন্ধান করলে দেখা যায় পাঁচ কাঠা জমির উপর বেইজমেন্ট নির্মাণের জন্য তেমন কোন খালি জায়গা রাখা হয়নি। রাজউকের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,  দশতলা ভবন নির্মাণের জন্য নিয়ম অনুযায়ী  মিনিমাম শতকরা ৫০ ভাগ জায়গা খালি রাখতে হবে।

নকশা না নিয়ে ভবন নির্মাণের ব্যাপারে হেরিটেজের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাকিবের মোবাইলে ফোন করে আব্দুল্লাহ আল বাকীর মতামত নিতে মোবাইল নাম্বার চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ব্যাপারটি নিয়ে তিনি(বাকী) কথা বলবেন না।

হেরিটেজ কর্মকর্তার ফোন করার পর তথ্য সংগ্রহকালে কায়েস আহমেদ সেলিম, আশিকুর রহমান ও অঙ্গাত আরও একজন হেরিটেজের চেয়ারম্যান নাজমুলের আত্নীয় পরিচয়ে সাংবাদিক এ আর মোল্লাকে তুলে নিয়ে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করেছেন। 

এ ব্যাপারে মতিঝিল থানায় গত ৮ জুন একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন সাংবাদিক এ আর মোল্লা। ডায়েরি নং ৫০৯।  রাজউকের উল্লেখিত এলাকার দায়িত্বশীল পরিদর্শক ইমরান শেখ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।

এছাড়া রাজউক জোন-৬/১ এর দায়িত্বশীল অথরাইজড অফিসার জোটন দেবনাথ নকশা না নিয়ে বেইজমেন্ট নির্মাণের ব্যাপারে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী বেইজমেন্ট নির্মাণ করা না হলে, বেইজমেন্ট অপসারণ ও জরিমানা ছাড়া ভবনটির নকশা প্রনয়নের সুযোগ নেই।

এবি/ওজি