যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি অসম ও দেশের স্বার্থবিরোধী
সিপিবির আলোচনা সভায় বিশিষ্টজন
প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১০:৪০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে অসম ও দেশের স্বার্থবিরোধী উল্লেখ করে অবিলম্বে এই চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজন। এই চুক্তির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানিয়ে তারা বলেছেন, সরকার যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দেখলে দেশের জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রাম এগিয়ে নিতে হবে। সংকট উত্তরণে বামপন্থি শক্তির নতুন উত্থান ঘটাতে হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘আমেরিকার সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তি : বাংলাদেশের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এমন দাবি উঠে আসে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা এই সভার আয়োজন করে।
সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সিপিডির ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ, কলামিস্ট ও লেখক আবু তাহের খান, সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ। পরিচালনা করেন সিপিবি ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লুনা নূর।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাণিজ্য চুক্তির নামে বাংলাদেশকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলা হয়েছে। ফলে আমরা স্বাধীনভাবে সার্বভৌম সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। চুক্তি ভঙ্গ করলে নানা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই অন্যায্য চুক্তির বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা করতে হবে। কেননা এটি দেশের অর্থনীতি, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশে যে গণঅভ্যুত্থানের কথা বলা হচ্ছে, বাস্তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটেই ঘটেছে বলে মনে হয়। রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, কোনো গোপন চুক্তি নয়, সব চুক্তিই জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা এই চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য করবো। দেশবিরোধী এই চুক্তি যারা করেছে, তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
সভা থেকে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে মাসজুড়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচিতে রয়েছে, আগামী ১ থেকে ৭ এপ্রিল সারাদেশের থানায় থানায় পথসভা ও গণযোগাযোগ; ৮ থেকে ৩০ এপ্রিল গণসাক্ষরতা অভিযান ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ৭ মে সমাবেশ ও চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজাকার ও যুদ্ধাপরাধী বাদে জাতীয় সংসদের সব সংসদ সদস্যের কাছে স্মারকলিপি পেশ।
আমার বার্তা /জেএইচ
