দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের সঙ্গে প্রার্থীর নাম চায় বিএনপি
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীর নাম সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালট দেশের অভ্যন্তরে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হবে। সে কারণে সব নির্বাচনি এলাকায় যে ব্যালটে প্রতীকসহ প্রার্থীদের নাম থাকে, সেই একই ব্যালট সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়েছি। এ বিষয়ে আমরা সুস্পষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি। কারণ, সব প্রতীকসহ পোস্টাল ব্যালট সব কনস্টিটুয়েন্সিতে পাঠানোর প্রয়োজন নেই এবং তা দেশের মধ্যে সম্ভবও নয়। প্রত্যেকটি নির্বাচনি এলাকার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব প্রার্থীর নাম ও প্রতীকসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার হয়, সেটিই পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি, ইসি এটি গ্রহণ করবে। তারা জানিয়েছে, বিষয়টি বিবেচনা করবে।”
ব্যালট প্রণয়ন ও বিদেশে প্রেরণ কার্যক্রমে নানা অনিয়মের বিষয়টি ইসির কাছে তুলে ধরে এর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রবাসীদের জন্য যেসব পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে, সেখানে সঠিকভাবে বিষয়টি বিবেচনা করা হয়নি। যারা পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন ও প্রেরণের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে।”
তিনি বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি বাসায় ২০০–৩০০টি ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও কোথাও ব্যালট জব্দ করা হচ্ছে। কোথাও আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে, যা ২২ তারিখে হওয়ার কথা। কোথাও একজনের নম্বর দিয়ে আরেকজন ব্যালট গ্রহণ করছে। এভাবে নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।”
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, “পোস্টাল ব্যালটে অনিয়মের ঘটনায় বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটদানের এই পদ্ধতি প্রথমবারের মতো প্রয়োগ হচ্ছে। এখানে কিছু ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে। কিন্তু যে ভুলভ্রান্তিগুলো হচ্ছে, তাতে আমরা ভিকটিম হচ্ছি। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিছু কাজ হয়েছে বলে আমাদের ধারণা ছিল, যা এখন প্রমাণিত হচ্ছে।”
ভোটার স্লিপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা চাই অধিকাংশ ভোটার ভোটে অংশগ্রহণ করুক। ভোটার স্লিপের মাধ্যমে ভোটারের ভোট নম্বর, প্রার্থীর নাম ও প্রতীক জানলে বিষয়টি সহজ হয়। কিন্তু ভোটার স্লিপে দলের নাম, প্রতীক বা প্রার্থীর ছবি না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “আচরণবিধি পরিবর্তনের এখতিয়ার যেহেতু নির্বাচন কমিশনের রয়েছে, সেহেতু বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। ‘প্রত্যেক প্রার্থী ভোটার স্লিপ দেবেন। ভোটার স্লিপ পেলে ভোটার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে, কাকে ভোট দেবে। কিন্তু প্রক্রিয়াটি সহজ করা জরুরি। আমরা নির্বাচনকে কঠিন করতে চাই না, সহজ করতে চাই—যাতে অধিকাংশ ভোটার ভোট দিতে পারেন।”
বৈঠকে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
আমার বার্তা/এমই
