সুন্দরবন বন্ধের তিন মাসে ১৪৮ মামলা, আটক ৬৭ জন

প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গত তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণ ও ইকোট্যুরিজম বন্ধ থাকলেও থামেনি অবৈধ কর্মকাণ্ড। জুন, জুলাই ও আগস্ট বন্ধের তিন মাসে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ ১৪৮টি মামলা করেছে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮০ জনকে। তাদের মধ্যে ৬৭ জনকে আটক করা হয়েছে। পলাতক রয়েছেন ১৩ জন। একই সময়ে ১৫৬টি নৌকা ও চারটি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। 

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া জুন, জুলাই ও আগস্ট ২০২৬ সালের মামলা-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বন বিভাগের বিভিন্ন অভিযানে জব্দ করা জাল, ফাঁদ, মাছ, কাঁকড়া, মধু, হরিণের মাংসসহ বিভিন্ন সামগ্রীর তথ্যও রয়েছে। 

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিন মাসে করা ১৪৮টি মামলার মধ্যে ৩১টি পি ও আর, ১১৭টি ইউ ডি ও আর এবং একটি সি ও আর মামলা। এসব মামলায় মোট ৮০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৭ জন আটক এবং ১৩ জন পলাতক। 

অভিযানে ১০৮টি মাছ ধরার জাল ও দুই বস্তা জাল, ৫৯টি বিষের বোতল এবং ১ হাজার ১৯৮টি হরিণ ধরার ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া ২০০ মিটার হরিণ ধরার ফাঁদও উদ্ধার করা হয়। 

এ সময়ে ১৬৭ দশমিক ৫ কেজি চিংড়ি মাছ, ১ হাজার কেজি মধু, ১ হাজার ৪৯৫ কেজি কাঁকড়া এবং ২০০ কেজি সাদা মাছ জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১৪৫ দশমিক ২৫০ কেজি হরিণের মাংসও। 

এছাড়া অভিযানে ৬৬ হাজার ৬৬২ মিটার দোনদণ্ডী, ৭৮৬টি আটন, ৩৫টি দা ও পাঁচটি কুঠাল জব্দ করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি ১৮৪ দশমিক ৫ ঘনফুট এবং বিভিন্ন গোলকাঠ ২০ দশমিক ৩১ ঘনফুট উদ্ধার করা হয়। 

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে খুলেছে সুন্দরবন

বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ ছিল। একই সময়ে বন্ধ ছিল ইকোট্যুরিজম। ফলে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালেরা এ সময়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারেননি।

নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবারও সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন বনজীবীরা। মাছ ও কাঁকড়া ধরতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিয়ে সুন্দরবনে যাচ্ছে উপকূলের জেলেরা। দীর্ঘ তিন মাস পর জীবিকার চেনা ঠিকানায় ফিরছেন তারা।

তবে বনে ফেরার আনন্দের পাশাপাশি বনজীবীদের মধ্যে রয়েছে দস্যু আতঙ্ক। একাধিক জেলের অভিযোগ, সুন্দরবনে প্রবেশ করতে হলে বনদস্যুদের অগ্রিম টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে নৌকা আটক, জিম্মি, মারধর কিংবা হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। অতীতেও জেলেদের অপহরণ করে পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবন খুলে দেওয়া হয়েছে। বনজীবীদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। দস্যুতা দমনে কোস্ট গার্ড, র‍্যাবসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞায় বন বিভাগের অভিযানে ১৪৮টি মামলা ও ৬৭ জন আটকের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ জাল, ফাঁদ, মাছ, কাঁকড়া, মধু ও অন্যান্য সামগ্রী জব্দ হয়েছে। এখন সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার পর বৈধভাবে বনজ সম্পদ আহরণের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ শিকার ও আহরণ বন্ধ এবং বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বন বিভাগের বড় চ্যালেঞ্জ।