আদিবাসী নারী-শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

আদিবাসী নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াসহ তাদের সাংবিধানিক ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও মানবাধিকার নিশ্চিত করাসহ নয় দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ দাবি জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, মর্যাদা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয় রক্ষা এবং তাদের প্রতি সব ধরনের বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসানের লক্ষ্যে প্রতিবছর আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালিত হয়। এ বছর ‘Honoring indigenous midwives safeguarding life and wellbeing’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বলছে, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আদিবাসী জনগোষ্ঠী ভূমির অধিকার, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার মানবাধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশেষ করে, আদিবাসী নারী ও কন্যাশিশুরা একই সঙ্গে জাতিগত ও লৈঙ্গিক বৈষম্যের শিকার হওয়ায়, তাদের প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতার ঝুঁকি অনেক বেশি।

সংগঠনটির নয় দফা দাবি হলো-

১. আদিবাসী নারী-পুরুষসহ সব আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

২. আদিবাসী নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা বন্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৩. সহিংসতার শিকার আদিবাসী নারী ও শিশুদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা প্রদান করতে হবে।

৪. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ লক্ষ্যে সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।

৫. পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ে নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আলাদা একটি সেল স্থাপন করতে হবে।

৬. সমতলের আদিবাসীদের বেহাত হওয়া ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

৭. পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঞ্চিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যগত চর্চাকে স্বীকৃতি ও মর্যাদা দিতে হবে।

৮. আদিবাসী নারীদের ঐতিহ্যগত স্বাস্থ্যসুরক্ষা-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতাকে মর্যাদা দিয়ে, রাষ্ট্রীয় নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

৯. আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পাঠ্যবই প্রণয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।


আমার বার্তা/এমই