বেনজীরের জামিন বাতিলে আবেদন করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

সংযুক্ত আরব আমিরাতে শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য দেশটিতে নিয়োজিত আইনজীবী প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত বেনজীর আহমেদকে কী কী শর্তে জামিন দিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনও সরকারের কাছে পূর্ণাঙ্গ ও আনুষ্ঠানিক তথ্য আসেনি। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জামিনের শর্ত অনুযায়ী তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়তে পারবেন না।

তিনি বলেন, আমি রবিবার বিকালে বিষয়টি জানতে পেরেছি। যতটুকু শুনেছি, তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়া হয়েছে এবং তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। তবে জামিনের অন্য শর্তগুলো কী, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

জামিনের আদেশের প্রত্যয়িত অনুলিপি সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এ বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, আমাদের যে আইনজীবী প্রতিষ্ঠানটি সেখানে নিয়োজিত আছে, তাদের আদালতের আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। বেনজীর আহমেদকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ থেকে পাঠানো কাগজপত্রও দ্রুত আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে তার জামিন বাতিল চেয়ে অবিলম্বে আদালতে আবেদন করতে আইনজীবী প্রতিষ্ঠানটিকে বলা হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

বেনজীর আহমেদের কাছে অন্য কোনও দেশের পাসপোর্ট থাকতে পারে– এমন আশঙ্কার কথাও জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ সম্ভাবনার কারণেই সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং জামিনের পূর্ণাঙ্গ শর্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাইছে।

‘আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলছে’

আইনি প্রক্রিয়ার তুলনায় কূটনৈতিক পথে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা বেশি কিনা প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাকে ফেরানোর ক্ষেত্রে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হচ্ছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালতে নিজের পক্ষে আইনি প্রতিকার চাওয়ার অধিকার তার রয়েছে।

তিনি বলেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়াতেই আমরা তাকে ফেরত আনার চেষ্টা করছি। তবে সেখানকার আদালতে যাওয়ার অধিকার তার থাকতে পারে। পুরো বিষয় এবং আদালতের আদেশ না জেনে এ নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করতে চাই না।

তিনি বলেন, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন জানিয়েছে। এর মধ্যেই দেশটির একটি আদালত তাকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

মেট্রোরেলের নিচে বোমাসদৃশ বস্তু নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই

রাজধানীর মেট্রোরেল এলাকায় বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, রথযাত্রা ও উল্টো রথযাত্রা নিরাপদ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিত ব্যবস্থা নিয়েছিল। দুটি আয়োজনই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। তবে উল্টো রথযাত্রার দিন মতিঝিল মেট্রোরেল এলাকার একটি পিলারের নিচে ছাতার ভেতর বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়া যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আনসারের দুই সদস্য বস্তুটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ এলাকা ঘিরে রাখে এবং বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সেটি সরিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটায়।

তিনি বলেন, বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়ার বিষয়ে খুব বেশি শঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। কোনও পক্ষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে এমন চেষ্টা করে থাকতে পারে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।

অন্য একটি স্থানেও ব্যাগের মধ্যে একই ধরনের সন্দেহজনক বস্তু রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেটিও উদ্ধার করে নিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তার দাবি, আগের একই সময়ের তুলনায় এ ধরনের ঘটনা কমেছে। তারপরও উগ্রবাদী তৎপরতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা পর্যবেক্ষণে নিয়োজিত বিশেষ দলগুলো সতর্ক রয়েছে।

পুলিশকে দেওয়া নির্দেশনা ‘নিয়মিত সতর্কতার অংশ’

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে পুলিশকে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে কিনা প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের গাড়ি অরক্ষিত না রাখা, একটি দলের সব সদস্য একসঙ্গে গাড়ি ছেড়ে না যাওয়া এবং সব সময় অন্তত একজন সদস্যকে গাড়ির কাছে অবস্থান করতে বলা হয়। এটি পুলিশের স্বাভাবিক ও নিয়মিত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। এর সঙ্গে বিশেষ কোনও গোয়েন্দা তথ্য বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের তৎপরতার সম্পর্ক খোঁজার প্রয়োজন নেই।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি বলেন, দলটির দৃশ্যমান তৎপরতা খুব বেশি নেই। বিদেশ থেকে মাঝেমধ্যে কিছু বক্তব্য ও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে বলে সরকারের নজরে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে।


আমার বার্তা/এমই