জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও বিচারের দাবিতে তোপের মুখে মাহদী আমিন
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিচার এবং গণভোটের রায় কার্যকরের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের মুখোমুখি হয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর বিরাম ফাউন্ডেশনের অডিটোরিয়ামে জুলাই রেজুলেশন অ্যালায়েন্স (জেআরএ) আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লববিষয়ক প্রথম সম্মেলন’-এ এ ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে মাহদী আমিন বক্তব্য দিতে উঠলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তি ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা একযোগে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায় কার্যকর এবং জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তারা দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
একপর্যায়ে বক্তব্য শেষ করে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে চাইলে উপস্থিত বিক্ষুব্ধরা তার পথরোধ করেন। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে মাহদী আমিন পুনরায় মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, আমি আপনাদের আবেগ ও দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমি কথা দিচ্ছি, বর্তমান সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করবে।
মাহদী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা যে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নই বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি বলেন, তারা এমন একটি সত্যিকার অর্থে সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যেখানে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন হবে এবং কোনো ধরনের বৈষম্য থাকবে না। এই আদর্শ বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত অনেকেই আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। কেউ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, কেউ স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তাদের অনেকেই এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এসব আহত ব্যক্তি এবং শহীদ পরিবারের পাশে নির্বাচিত সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতা নিয়ে দাঁড়াতে চায় এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রভাব অল্প সময়ে সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব নয়। তবুও শহীদদের আত্মত্যাগ এবং তাদের পরিবারের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, তিনি আজ সরকারের পক্ষ থেকে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করছেন যে দলের চার শতাধিক নেতাকর্মী জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং তার পূর্ববর্তী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছেন। পাশাপাশি হাজারো মানুষ গুম, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বর্তমান গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ভিত্তি রচিত হয়েছে।
তাদের মূল রাজনৈতিক পরিচয় বাংলাদেশপন্থি রাজনীতি এবং বাংলাদেশকেন্দ্রিক রাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করা। এ লক্ষ্যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ঐক্যে বিশ্বাসী সব মানুষকে একই আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।
আমার বার্তা/এমই
