বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীন অন্যতম প্রধান অংশীদার: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আঞ্চলিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি মূলত অর্থনীতিকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে এবং এই কৌশলী যাত্রায় চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে 'বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সমিতি' আয়োজিত এক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ভূ-রাজনীতি এখন অর্থনীতি কেন্দ্রিক এমন মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, পৃথিবীর অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং উৎস হিসেবে চীন আজ সারা বিশ্বেই সমাদৃত। স্বাভাবিক কারণেই আমাদের দেশের অর্থনীতি, বিশেষ করে আমাদের বাণিজ্য পরিপূর্ণভাবেই চীন নির্ভর হয়ে পড়েছে।
সে কারণে চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব ধরে রাখার ক্ষেত্রে আমাদের যেমন বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তেমনি আমাদের আন্তরিক আগ্রহও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের মতো দেশকে যদি এগিয়ে যেতে হয়, তবে অর্থনীতির গতিকে আরও অনেক বেশি ত্বরান্বিত করতে হবে।
আর এই কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু হতে পারে চীন, কারণ বেইজিংয়ের সেই সামর্থ্য রয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক খতিয়ান টেনে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে যে এফডিআই স্টক রয়েছে, তার মধ্যে চীনের অবস্থান দ্বিতীয়। তবে চীন থেকে আমাদের আমদানির চিত্র প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হলেও, আমরা ১ বিলিয়ন ডলারও দেশটিতে রপ্তানি করতে পারি না। এই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি থাকার পরও আমাদের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য চীন সরকারের যে আগ্রহ, সেটাই আমাদের বন্ধুত্বের অন্যতম কৌশলগত দিক।

চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ রোড কানেক্টিভিটি আঞ্চলিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশ ও চীন একটি বিষয়ে একমত হয়েছে, চীন, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বা রোড কমিউনিকেশন চালু করা হবে। যোগাযোগ ছাড়া কোনো অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যেতে পারে না। এই আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতসহ অন্য যেকোনো দেশ চাইলে পরবর্তীতে এই উদ্যোগে যুক্ত হতে পারে।

রোহিঙ্গা ইস্যু বাংলাদেশের জন্য একটি বড় কৌশলগত সংকট উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বেইজিংয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন সরকারের ভূমিকা, বিশেষ করে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত যেভাবে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনা করে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আশা করি এই সংকটের টেকসই সমাধানে চীন তার কার্যকর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

সেমিনারে ঢাকাস্থ চীনের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আমার বার্তা/এমই