ঢাকা-মালের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত: এমএনইউতে হাইকমিশনারের বই উপহার
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও গভীরতর করার লক্ষ্যে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এমএনইউ) এক বিশেষ বই হস্তান্তর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ই জুলাই) এ উপলক্ষে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় ‘পাওয়ার অব বন্ডিং অ্যান্ড নন-ওয়েস্টার্ন সফট পাওয়ার স্ট্র্যাটেজি’ শীর্ষক গ্রন্থ। বইটির রচয়িতা মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমএনইউয়ের উপাচার্য ড. আইশাথ শেহেনাজ আদম আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রন্থটি গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রধান গ্রন্থাগারিক, শিক্ষক, গবেষক, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।
স্বাগত বক্তব্যে এমএনইউয়ের প্রধান গ্রন্থাগারিক হুসেইন হালিম এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের বই উপহার গবেষণা, জ্ঞানচর্চা এবং বাংলাদেশ-মালদ্বীপের শিক্ষা সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দেবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার শুধু বই সংরক্ষণের স্থান নয়, বরং জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের প্রাণকেন্দ্র। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার গ্রন্থটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি, সফট পাওয়ার এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক রাজনীতিতে ক্ষুদ্র ও মধ্যম রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন গবেষণা ও অ্যাকাডেমিক আলোচনাকে সমৃদ্ধ করবে।
তিনি তার গ্রন্থে উপস্থাপিত ‘পাওয়ার অব বন্ডিং’ তত্ত্বের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, পারস্পরিক আস্থা, সম্মান, বন্ধুত্ব, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে স্থায়ী সম্পর্কই আধুনিক সফট পাওয়ারের প্রকৃত ভিত্তি। রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থের বাইরে মানুষে-মানুষে সংযোগই দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলে।
বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বর্তমান সম্পর্ককে ‘পাওয়ার অব বন্ডিং’-এর একটি সফল বাস্তব উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। হাইকমিশনার ভবিষ্যতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, অ্যাকাডেমিক সেমিনার, বৃত্তি কর্মসূচি এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নকে সহযোগিতার সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে এমএনইউয়ের উপাচার্য ড. আইশাথ শেহেনাজ আদম বাংলাদেশ-মালদ্বীপের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, হাইকমিশনারের রচিত গ্রন্থটি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের জন্য একটি মূল্যবান সংযোজন এবং এটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমএনইউ ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ অ্যাকাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা গড়ে তুলতে আগ্রহী।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠান শিক্ষা কূটনীতি, জ্ঞান বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের অভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটায়। একই সঙ্গে এটি দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ‘পাওয়ার অব বন্ডিং’ কেবল একটি তাত্ত্বিক ধারণা নয়, বরং বাংলাদেশ-মালদ্বীপের গভীর ও স্থায়ী বন্ধুত্বের বাস্তব প্রতিফলন।
