খাল-গাছের যত্ন ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশ : ১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:২৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ নয়, সেগুলোর পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।’ একই সঙ্গে খাল-নদী দখল ও দূষণমুক্ত রাখা এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক ও আবর্জনা না ফেলে পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নে নবখননকৃত সরিকল-বাটাজোর খালের পাড়ে সরকারের ঘোষিত ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার খাল পুনঃখনন ও বৃক্ষরোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গাছ রোপণের সময় চারা থেকে পলিথিন খুলে ফেলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই পলিথিনসহ চারা মাটিতে বসিয়ে দিচ্ছেন। এতে গাছ বাঁচবে না। তাই যত্ন নিয়ে সঠিকভাবে চারা রোপণ করতে হবে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগে যেমন শীত পড়ত এখন তেমন পড়ে না, আবার গরমও বেড়েছে। কোথাও অতিবৃষ্টি, কোথাও দীর্ঘ সময় বৃষ্টি নেই। এই পরিস্থিতির প্রভাব কমাতে সারা দেশে ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, আজ আড়াই হাজার গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। তবে চারা লাগিয়েই চলে গেলে হবে না। একটি শিশুকে যেমন বড় করে তুলতে হয়, তেমনি গাছকেও পরিচর্যা করতে হবে। গাছ বড় হলে ছায়া দেবে, বিশুদ্ধ বাতাস দেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে।
খাল-নদী রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, খাল ও নদীতে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও আবর্জনা ফেলার কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। খাল-নদী পরিষ্কার থাকলে তার সুফল স্থানীয় মানুষই ভোগ করবে।
তিনি বলেন, ‘এই দেশ আমাদের। দেশের মালিক জনগণ। নিজের ঘরের যেমন যত্ন নিতে হয়, তেমনি দেশেরও যত্ন নিতে হবে।’
পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যক্তিগত অভ্যাস পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজে ব্যবহৃত টিস্যু বা ছোটখাটো বর্জ্য সঙ্গে রাখেন এবং পরে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলেন। সবাই যদি এমন অভ্যাস গড়ে তোলে, তাহলে বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্ন দেশ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
বক্তব্যের শেষদিকে তারেক রহমান বলেন, এদিন তিনি কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
