বিমানের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বা সিন্ডিকেট জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ১৯:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

কোনো এজেন্সি বিমানের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য আদায় করলে বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী এসব কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। আজ এর প্রশ্ন-উত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, অভ্যন্তরীণ বিমানে টিকিট বুকিংয়ে দিন ও সময়কে কেন্দ্র করে ভাড়া ওঠা নামা করার কারণ হলো আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনের মতো অভ্যন্তরীণ রুটেও এয়ারলাইন্সগুলোর ভাড়া সময় এবং চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, যা বিশ্বব্যাপী ‘রেভিনিউ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ বা ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি নামে পরিচিত। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও অভ্যন্তরীণ রুটে বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া এই পদ্ধতিতেই নির্ধারিত হয়ে থাকে।

মন্ত্রী বলেন, ভাড়া ওঠা নামা করার আরো কারণ হলো বাংলাদেশ বিমান তার নিজস্ব বাণিজ্যিক স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থ, একই রুটে অন্যান্য উড়োজাহাজ কোম্পানির প্রতিযোগিতামূলক ভাড়া এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের নিয়ামক যেমন- জ্বালানি মূল্য, পরিচালনা ব্যয়, এয়ারক্রাফটের ধরন, দিন, সময়, পিক, অফ-পিক, মৌসুম, যাত্রী চাহিদা, আসন প্রাপ্যতা, অগ্রীম বুকিং, যাত্রীসেবার মান ইত্যাদি বিবেচনায় টিকিটের মূল্য/ভাড়া নির্ধারণ করে থাকে। ফলে অধিক চাহিদা সম্পন্ন সময়ে ভাড়া বৃদ্ধি পায় এবং কম চাহিদাসম্পন্ন সময়ে তুলনামূলকভাবে ভাড়া হ্রাস পায়।

তিনি বলেন, ভাড়া ওঠা নামা করার ক্ষেত্রে আরো উল্লেখযোগ্য কারণ হলো মুক্ত বাজার অর্থনীতি এবং এভিয়েশন শিল্পের বৈশ্বিক নিয়ম অনুযায়ী টিকিটের সরাসরি ফিক্সড বা নির্ধারিত ভাড়া আরোপ করা না হলেও, অভ্যন্তরীণ রুটে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স হিসেবে বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া যাতে সাধারণ যাত্রীদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে না যায় এবং অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলকারী অন্যান্য উড়োজাহাজ কোম্পানির। তুলনায় টিকিটের মূল্য/ভাড়া যুক্তিযুক্ত সাশ্রয়ী পর্যায়ে থাকে সে বিষয়ে বিমান সর্বদা সচেষ্ট থাকে।

বিমান মন্ত্রী বলেন, এয়ার টিকিটের মূল্যের স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা রক্ষা, বিমান টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি রোধ ও যাত্রীদের স্বার্থ সংরক্ষণে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল আইন, ২০১৭ সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তাছাড়া টিকিট সিন্ডিকেট ও প্রতারণা রুখতে টিকিটের গায়ে আবশ্যিকভাবে মূল্য, এজেন্সির নাম ও লাইসেন্স নম্বর উল্লেখ করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো এজেন্সি অস্বাভাবিক মূল্য আদায় করলে বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের নিবন্ধন বাতিলসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিমান টিকিটের দাম যেন যাত্রীদের জন্য সহনীয় পর্যায়ে থাকে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) নিয়মিত ট্রাভেল এজেন্সি ও এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও আলোচনা চলমান রেখেছে।


আমার বার্তা/এমই