সীমান্তে পুশ ইন ইস্যু আলোচনা হবে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১৫:২৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক। এই বৈঠকে বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ পুশ ইনসহ সব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং বিশেষ করে অবৈধ পুশ ইনের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হবে। তিনি জানান, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক নিয়মিতভাবে একবার বাংলাদেশে এবং পরেরবার ভারতে অনুষ্ঠিত হয়। এবার বৈঠকের আয়োজন ভারতেই হচ্ছে। কারণ, এটি তাদের পালা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছি এবং আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, সরকার সব ধরনের অবৈধ পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে প্রস্তুত। তবে এসব সমস্যা প্রাথমিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ চলমান রয়েছে এবং আসন্ন বৈঠকেও এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর এটিই হবে এ ধরনের প্রথম বৈঠক। পশ্চিমবঙ্গে নতুন ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকারের চলমান ‘ডিটেক্ট, ডিলেট অ্যান্ড ডিপোর্ট বা শনাক্ত, মুছে ফেলা এবং বহিষ্কার’ অভিযান মূলত নথিপত্রবিহীন তথাকথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
এই নিয়ে যখন পরিস্থিতি উত্তপ্ত ঠিক তখনই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালকেরা বৈঠকে বসবেন। মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। তবে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কারণে তা স্থগিত করা হয়।
বিএসএফ বৈঠকে সীমান্তপারের অপরাধ, বাংলাদেশভিত্তিক ‘দুর্বৃত্তদের’ হাতে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা, সীমান্ত বেড়া নির্মাণ এবং বাংলাদেশে সক্রিয় ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়গুলো উত্থাপন করতে পারে।
প্রসঙ্গত, সীমান্ত সুরক্ষা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বছরে দুবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একবার ভারতে এবং পরেরবার বাংলাদেশে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার স্থল ও নদীসীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার।
আমার বার্তা/এমই
