রামিসা হত্যার রায় ৩ মাসের মধ্যে কার্যকরের আশা আইনমন্ত্রীর
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১৩:০১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ মাত্র ছয় কার্যদিবসে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। আইনি সব প্রক্রিয়া (ডেথ রেফারেন্স ও আপিল) শেষে আগামী তিন মাসের মধ্যে এই ফাঁসির রায় কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।
রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ড জাতির কাছে অত্যন্ত দুঃখ ও বেদনার। আমরা রামিসাকে তার বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারব না, কিন্তু আমাদের যতটুকু করার আমরা করেছি। আইনি সব প্রক্রিয়া মেনেই মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে আমরা বিচার করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি প্রথম।
দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ার পেছনের কারণ উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ১৯ মের ঘটনার পর ২৪ মে চার্জশিট দেওয়া হয়।
নিম্ন আদালতে ১ জুন থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত সরকারি ছুটি থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সম্মতিতে শিশু ট্রাইব্যুনালগুলোকে ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়। ঢাকা বারের সিদ্ধান্তে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালে ২৪ তারিখেই রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়, যাতে ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কোনো প্রশ্নবোধক চিহ্ন না থাকে। এরপর চার্জ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামির স্বীকারোক্তি ও যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণা করা হয়।
রায় কার্যকরের সময়সীমা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী ৭ দিনের মধ্যে ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে যাবে। সেখানে পেপারবুক তৈরি ও শুনানির বিষয় রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ যদি অগ্রাধিকার দিয়ে শুনানি করেন, তবে আমার প্রত্যাশা আগামী তিন মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করা সম্ভব।
শিশু রাজন, রাকিব ও আছিয়া হত্যার রায় উচ্চ আদালতে বছরের পর বছর আটকে থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি হতাশার এবং আপনাদের প্রশ্নটি যৌক্তিক। আমি অ্যাটর্নি জেনারেল থাকাকালে মেজর সিনহা ও বুয়েটের আবরার হত্যা মামলা বিশেষ আদেশে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে সক্ষম হয়েছিলাম। রামিসার পাশাপাশি আটকে থাকা অন্যান্য মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে সলিসিটর উইং এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস যৌথভাবে উদ্যোগ নেবে।
দ্রুত বিচারের প্রসঙ্গে মন্ত্রী ১৮৮২ সালে নদীয়া সেশন কোর্টে মল্লুক চাঁদ মামলার উদাহরণ টেনে বলেন, তখন একদিনে ৯ বছরের শিশু হত্যার বিচার সম্পন্ন হলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইনি ধাপগুলো পেরিয়ে এত দ্রুত বিচার করা সম্ভব নয়। তবু সরকার আইনের প্রতিটি ধাপ মেনেই রামিসা হত্যার বিচার সম্পন্ন করেছে।
ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর না হওয়াকেই সমাজে অপরাধ বাড়ার একমাত্র কারণ মানতে নারাজ আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপরাধীরা মানসিকভাবে অসুস্থ। আসামি সোহেল রানা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেওয়ার পরও বিচারকাজ বিলম্বিত করতে মামলার রেকর্ডে নেই এমন একজনের নাম টেনে আনে। শুধু আইন দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, সমাজব্যবস্থা থেকে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ দূর করতে সামাজিক সচেতনতা ও সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে সরকারের পদক্ষেপের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পূর্বে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাগুলো সাধারণ ট্রাইব্যুনালে যেত। আমরা আইনের রূপান্তর ঘটিয়ে শিশুর প্রতি সহিংসতার জন্য আলাদা আদালত প্রতিষ্ঠা করেছি, যাতে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হয়।
আমার বার্তা /জেএইচ
