আমদানি নয়, লক্ষ্য এখন মাংস রপ্তানি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১৭:১৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

দেশে কোরবানির পশু উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমদানি নয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত পশু ও মাংস বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান।
বিদেশ থেকে পশু বা মাংস আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের এমন কোনো পরিকল্পনা নেই। বরং সীমান্তপথে অবৈধভাবে পশু প্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এর ফলে দেশের খামারিরা ন্যায্যমূল্য পেয়েছেন এবং কোরবানির পশুর বাজার দেশীয় উৎপাদনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের চাহিদার তুলনায় পশু উৎপাদন বেশি হচ্ছে। এ উদ্বৃত্ত উৎপাদনকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে মাংস রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে দেশে ১৩টি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোও সীমিত পরিসরে মাংস রপ্তানি করছে। সরকার এ খাতে বড় খামারিদের উৎসাহিত ও সহযোগিতা করছে।
তিনি বলেন, দেশে খামারির সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বর্তমানে দেশের চাহিদা পূরণ করার মতো পশু উৎপাদন হচ্ছে। ভবিষ্যতে উদ্বৃত্ত পশু ও মাংস রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পশু পালনের সবচেয়ে বড় ব্যয় খাদ্য খাতে। খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় পশুর দামও বাড়ে। এ কারণে মাংসের দাম কমাতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতায় উন্নত জাতের ঘাস উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮৩৫ জন ক্ষুদ্র খামারিকে ঘাস উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
উন্নত ঘাস ব্যবহারের ফলে পশুর খাদ্য ব্যয় কমবে এবং দুধ উৎপাদনও বাড়বে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একই সঙ্গে খামারিদের ফিডের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ঘাসভিত্তিক পশুপালনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পশু মোটাতাজাকরণে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মাংসের দাম কমছে না কেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য উৎপাদন ব্যয় কমাতে পারলে ধীরে ধীরে গরু ও অন্যান্য পশুর মাংসের দামও কমে আসবে বলে তিনি আশা করছেন।
ক্ষুদ্র খামারিদের উদ্বৃত্ত পশু বিক্রির সমস্যা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোথাও কোনো খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না তা সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হবে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের খামারিরা যেন আরও বেশি উৎপাদনে উৎসাহিত হন এবং দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রবেশ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে যাচ্ছে।
আমার বার্তা/এমই
