বদলির কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়, মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী গ্রেফতার

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ১৪:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নারী কর্মচারীর নেতৃত্বে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নের কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতার দুজন হলেন-এম আমিনুর রহমান শান্ত (৪৪) ও নিলুফা সুলতানা (৫৬)।

ডিবি জানিয়েছে, প্রতারক চক্র নিজেদের কখনো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কখনো রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রশাসনিক ব্যক্তির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত ২৬ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ব্যবহার করে একটি চক্র সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করছে। একইসঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক মহলের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ও পদ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়।

অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে (২১ মে) বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকা থেকে এম আনিসুর রহমান শান্ত নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা বিশ্লেষণ করে চক্রের আরেক সদস্য নিলুফা সুলতানার তথ্য পাওয়া যায়। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা অধিশাখা-২ এর এক কর্মকর্তার কর্মচারী হিসেবে কর্মরত।

ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বদলি ও পদায়ন নিয়ে কথোপকথন, বায়োডাটা সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য বদলি আদেশের কপি আদান-প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রায় ২০ থেকে ২২ পৃষ্ঠার বিভিন্ন কথপোকথনের তথ্য পেয়েছি। সেখানে দেখা গেছে তারা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং কোথায় পদায়ন করে দিলে কত টাকা দেওয়া যাবে এ ধরনের কথাবার্তাও রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। তদন্তে যেই জড়িত থাকুক না, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী হয়ে থাকে। এসব বিষয়ে প্রতারক চক্রের ফাঁদে না পড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা থানায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

আমার বার্তা/জেএইচ