কৃষকদের সমৃদ্ধ করতে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ১৭:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষকের কষ্টে ফলানো ফসল হারানোর বেদনা অনেক। সরকার কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
শনিবার (০৯ মে) দুপুরে জেলার নাসিরনগর উপজেলার মেদির হাওর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
ভেজা ধান সরকারি গুদামে সংগ্রহের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে জেলা পর্যায়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
কিশোরগঞ্জের অল ওয়েদার রোড প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সড়কটির কারণে পানি প্রবাহে কোনো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে কি না তা তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা কাজ করছে। কোথাও সমস্যা থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, নাসিরনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এছাড়া বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং ভারি বৃষ্টিপাত না হওয়ায় মেদির হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের পানি কিছুটা কমেছে। পানিতে তলিয়ে থাকা ধানি জমি দৃশ্যমান হওয়ায় কৃষকদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কৃষকরা কেটে আনা ধান শুকানোর কাজও শুরু করেছেন। তবে অধিকাংশ জমি দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকায় ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
উপজেলা প্রশাসনসূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি মৌসুমে নাসিরনগর হাওর এলাকায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঢলের পানিতে ৩০৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি টাকা। তবে স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।
আমার বার্তা/এমই
