স্বাক্ষরিত জুলাই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, দেশের প্রতিটি সেক্টর সংস্কার ও প্রতিটি মানুষের উন্নয়নের ইশতেহার আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল। জুলাই সনদের প্রতিটি দফা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে এই সরকার বদ্ধপরিকর।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা সেনানিবাসে প্রধানমন্ত্রীর দরবার অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি সেনাবাহিনীর পেশাদারত্ব, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের প্রশংসাও করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই সেনাবাহিনীর একমাত্র পবিত্র দায়িত্ব। সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থাও প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। এর পরের শাসনামলেও নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো আমলে সেনাবাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সেনাবাহিনী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে।

সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনী যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে বাংলাদেশকে কখনো কেউ পরাজিত করতে পারবে না। তিনি যে দেশপ্রেমের অগ্নিশিখা জ্বালিয়েছিলেন, তা যেন নিভে না যায়।

অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব.) সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান, ওএসপি, এনপিপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, বিবিপি, ওএসপি, জিইউপি, এনএসডব্লিউসি, পিএসসি প্রধানগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার।

দরবারে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা, দেশের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন। বিশেষত, গত ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময় থেকে অদ্যবধি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি সশস্ত্র বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কর্তৃক সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পরিশেষে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে দেশকে ধারণ করা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জনগণের আস্থা অটুট রাখা এবং সর্বোপরি কর্মে, সততায়, শপথে ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দেন।

দরবারে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং দেশের অন্যান্য স্থানে অবস্থানরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্স এর মাধ্যমে অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি (অব.) উপস্থিত ছিলেন।


আমার বার্তা/এমই