ঈদে বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর বিআরটি লেনে একমুখী চলবে গাড়ি

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ১৭:১১ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

আসন্ন ঈদযাত্রা সহজ করতে বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত বিআরটি লেন এবং আব্দুল্লাহপুর থেকে আশুলিয়া রোড পর্যন্ত ওয়ানওয়ে (একমুখী) যান চলাচল চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার। এছাড়া ঢাকা বাইপাস রোড খোলা রাখার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, সড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হলো ফিটনেসবিহীন ‘লক্কড়-ঝক্কড়’ বাস। এই বাসগুলো হাইওয়েতে নষ্ট হলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এসব বাস যাতে রাস্তায় নামতে না পারে সেজন্য বিআরটিএ এবং ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। গতবারের মতো এবারও লক্কড়-ঝক্কড় বাস মেরামতের জায়গায় নজরদারি চালানো হবে।

বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের সহায়তায় ‘হেল্পডেস্ক’ স্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছেন কমিশনার। সেখানে বাসের ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া এবং কোনো বাসের শিডিউল বিপর্যয় হলে তা দ্রুত যাত্রীদের জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া টার্মিনালগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সিটি করপোরেশনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ডিএমপি। তিনি বলেন, টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, এসবি এবং র‍্যাব মোতায়েন থাকবে। এছাড়া সন্দেহভাজন বস্তু তল্লাশিতে ডগ স্কোয়াড এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে সোয়াট টিম প্রস্তুত থাকবে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে মাউন্টেন পুলিশও (অশ্বারোহী) দায়িত্ব পালন করবে।

ডিএমপি কমিশনার মালিক ও শ্রমিক সমিতিকে অনুরোধ করেছেন যাতে চালকরা একটানা ৪-৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি না চালান এবং যত্রতত্র দাঁড়িয়ে যাত্রী না তোলেন। বিশেষ করে আব্দুল্লাহপুর, গাবতলী ও সায়েদাবাদে মূল সড়কে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুললে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ঈদে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা সহজ করতে এবং সড়কে যানজটের চাপ কমাতে আগামী ১৮ মার্চ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। মূলত যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাধারণত ঈদের আগে ছুটি কম থাকলে একদিনে বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়েন। যদি দুই দিনের ছুটি থাকে, তবে একদিনে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ লোক যাতায়াত করেন। কিন্তু ছুটি চার থেকে পাঁচ দিন হলে এই চাপ ভাগ হয়ে যায় এবং প্রতিদিন গড়ে ২০ লাখ মানুষ ঢাকা ছাড়বে। এর ফলে বাসগুলো যাত্রী নামিয়ে দ্রুত ফিরে এসে আবার নতুন যাত্রী নিতে পারবে, যা ঈদযাত্রাকে অনেক বেশি সহজতর করবে।

একসঙ্গে বিপুল জনস্রোত সামাল দিতে তৈরি পোশাক খাতের (গার্মেন্টস) মালিকদের প্রতি ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৬ থেকে ২০ মার্চের মধ্যে প্রতিদিন ২০ শতাংশ হারে শ্রমিকদের ছুটি দিলে পরিবহন সংকট ও যানজট উভয়ই নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে ডিএমপি মনে করছে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে বিআরটিএ, সিটি করপোরেশন ও ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবেন এবং মলম পার্টি বা ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার।

মহাখালী বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. সাইফুল আলম ও ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেন প্রমুখ।


আমার বার্তা/এমই