গুরুত্বপূর্ণ কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান সচিবকে
প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

প্রথা ভেঙ্গে এবারই প্রথম আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কমিটি, অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ কমিটির সহায়তাদানকারী সদস্যপদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, সাধারণত কমিটিকে সহায়তাদানকারী হিসেবে অর্থ বিভাগ ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবদের রাখা হয়। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে কমিটি দু’টিতে সহায়তাদানকারী সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছিল।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এই কমিটিতে মোট ১৬ জন সদস্য ছিল; অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ায় সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১৫তে। বর্তমান সরকারের সময় বাদ দেওয়া হলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে, ফলে এখন এ কমিটির সংখ্যা দাঁড়ালো ১৪তে।
এ কমিটিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার ক্রয় প্রস্তাব যাচাই-বাছাই এবং ঠিকাদার নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তারা কমিটির, বিশেষ করে মন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিয়ে থাকে।
তাহলে কি সত্যি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে বিলুপ্ত করছে সরকার? এমন প্রশ্নও অনেকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। কারণ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে বিলুপ্ত করে আগের মতো অর্থ বিভাগের সঙ্গে একীভূত করার আলোচনাও চলছে অনেক দিন ধরেই।
বড় ধরনের সিদ্ধান্তে জন্য কমিটি ‘অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করেছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন-
(২) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
(৩) সালাহউদ্দিন আহমদ মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
(৪) খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মন্ত্রী, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
(৫) মো. আসাদুজ্জামান, মন্ত্রী, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কমিটির সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।
সভায় সহায়তাদানকারী কর্মকর্তারা হচ্ছেন :
(১) মন্ত্রিপরিষদ সচিব
(২) প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব/সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
(৩) গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
(৪) সচিব, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
(৫) সচিব, অর্থ বিভাগ
(৬) সচিব, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।
(৭) সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।
(৮) সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়।
(৯) সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
(১০) সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
(১১) সচিব, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ।
(১২) পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট সদস্য।
(১৩) সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ
(১৪) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ), বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ।
এ কমিটিতে ‘সচিব’বলতে সিনিয়র সচিবও অন্তর্ভুক্ত হবেন। কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী দেখা যায়, বাণিজ্যনীতি, শিল্পনীতি, দেশের সার্বিক আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিষয়াদি পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন সহ বিভিন্ন বিষয়ে এই কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে সুতরাং এ ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের গুরুত্ব অপরিহার্য বলছেন বিশ্লেষকরা। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে একজন ব্যবসায়ীকে বসানোর পর অর্থমন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজনে আরো পরিবর্তন হবে। এরই ধারাবাহিকতায় হয়তো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হলো।
