ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতা

সুজনের পর্যবেক্ষণ

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

অভিযুক্ত ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটি বলেছে, অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপি প্রার্থী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। এই তালিকায় বিএনপির ৪১ জন এবং জামায়াতে ইসলামীর চারজন প্রার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত ঋণখেলাপিদের মধ্যে ১১ জন বিজয়ী হয়েছেন, যাদের সবাই বিএনপি জোটের প্রার্থী। 

এছাড়া বেশ কয়েকজন প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের দালিলিক প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে অবাধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পান। নির্বাচন কমিশন এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের পার করে দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। 

বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সুজন আয়োজিত ‘সুজন-এর দৃষ্টিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে সংগঠনের সার্বিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।

সুজনের সম্পাদক ও ট্রাস্ট্রি বোর্ডের প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের জাতীয় কমিটির সদস্য একরাম হোসেন। সঞ্চালনা করেন সুজনের সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গণঅভ্যুখানের পর অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল অনেক প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার। আশার কথা হলো, নির্বাচন অপেক্ষাকৃত শান্তিপূর্ণ হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাচনে বিজয়ী দলের নেতা কর্তৃক পরাজিত দলের নেতাদের সাথে সাক্ষাৎ এবং পরাজিত দল কর্তৃক বিজয়ীদের অভিনন্দন জানানো নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার পূর্বাভাস বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া বা না নেওয়া, বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিজয়ী ও পরাজিতদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ এবং ১১ দলীয় জোটভুক্ত দলগুলো কর্তৃক মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান বর্জন নতুন শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, দ্রুতই সংকট কেটে যাবে এবং আমরা সকলে মিলে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় শামিল হব।


আমার বার্তা/জেএইচ