পররাষ্ট্রে চমক: খলিলুরে ভরসা, শামার পরিশ্রমের পুরস্কার

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কূটনীতি সামালানোর দায়িত্ব পেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। তিনি টেকনোক্র্যাট কোটায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হচ্ছেন। পাশাপাশি ভোটের মাঠে লড়াই করে জিতে আসা কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলামকে খলিলুরের সঙ্গে রেখেছে বিএনপি। তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাবেন। 

বর্তমান প্রেক্ষাপটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চীনসহ অন্য বিদেশি বন্ধুদের সামলানোর ক্ষেত্রে নতুন সরকার কাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচিত করবে সেদিকে নজর ছিল দেশের সচেতন নাগরিকের। ভোটে জয়লাভের পর বিএনপির মনোভাব আর ইশারা-ইঙ্গিত বলছিল, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী হবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি না হলেও দলটির জ্যৈষ্ঠ কোনো নেতাকে দেওয়া হবে গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব। তবে বিষয়টি অনেকটাই গোপন রাখে বিএনপি।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর নাগাদ প্রকাশ পায় তারেক রহমান আসলে ভেবে রেখেছিলেন অন্যকিছু। দলের কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে এই পদের জন্য বেছে নিয়েছেন তিনি। যা অনেককে করেছে অবাক।

কারণ তিনি যখন অন্তর্বর্তী সরকারে ছিলেন তখন বিএনপিই খলিলুর রহমানের পদত্যাগ চেয়েছিল। এছাড়া, একটি দেশের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের কথাও আসছে।

অন্যদিকে, শামা ওবায়েদকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নির্বাচিত করছে বিএনপি সরকার। শামা ওবায়েদের প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবরে কেউ অবাক হননি। কেননা, তিনি বিএনপির পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কূটনীতির মাঠে বিএনপির হয়ে লড়েছেন শামা। তিনি বিএনপির হয়ে বিদেশির সঙ্গে দেনদরবার করেছেন; যুক্তি দিয়েছেন, তর্ক করেছেন দলের জন্য। সেই পরিশ্রমের ফসল পেয়েছেন তিনি।

বিএনপির সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “বিএনপি ভালো বলতে পারবে তারা কি কারণে খলিলুর রহমানকে নির্বাচন করেছে। একটা হতে পারে, বড় আকারে যেহেতু বিশ্ব পরিধির ভু-রাজনৈতিক বিষয় আছে। গত দেড় বছরে আমেরিকার সঙ্গে আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন খলিলুর রহমান। তিনি ভালো করে জিনিসটা জানেন, সেই কারণে হতে পারে একটা ধারাবাহিকতা রাখার জন্য। নিশ্চয়ই বিএনপি চিন্তা-ভাবনা করেই তাকে রেখেছে। খুব তাড়াতাড়ি কিছু বলা ঠিক হবে না।”

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন কূটনীতির মানুষ মো. তৌহিদ হোসন। তিনি চেষ্টা করেছিলেন ভালো কিছু করার। কিন্তু কাগজে-কলমে দায়িত্বে ছিলেন না এমন অনেকে তার চেষ্টায় বাধা হয়েছেন, সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেছেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিয়োগ পান খলিলুর রহমান। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে তাকে প্রধান উপদেষ্টার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা করা হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের দেখভালের চাবি ছিল নিরাপত্তা উপদেষ্টার খলিলুর রহমানের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিসহ অন্যান্য বিষয়ে দেনদরবারের মূলে ছিলেন তিনি। 

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জনের মন্ত্রিসভা গঠন ক‌রে‌ছে বিএন‌পি। নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নি‌য়ে‌ছেন।