ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে: আইজিপি
প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৩০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন হিসেবে আয়োজন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। নির্বাচন উপলক্ষে সারাদেশে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ সদস্য, প্রায় ৬ লাখ আনসার, বিজিবি এবং ১ লাখ সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় আইজিপি বলেন, “নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা তিনস্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে থাকবে স্ট্যাটিক ফোর্স, এর বাইরে থাকবে মোবাইল টিম, এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স।”
তিনি জানান, সারা দেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ, ১৬ হাজার কেন্দ্রকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাকি কেন্দ্রগুলোকে সাধারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি থাকবে।
আইজিপি বলেন, এবার নির্বাচন নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি জেলা পুলিশ সুপাররা প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।
অস্ত্র উদ্ধার ও ঝুঁকি বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি জানান, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র নির্বাচনকালীন বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত। লাইসেন্সকৃত ব্যক্তিগত অস্ত্রের মধ্যে ১ হাজারের বেশি অস্ত্র লুট হয়েছে, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। যেকোনো অবৈধ অস্ত্রই হুমকি। এ কারণে এবার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
বিভিন্ন জেলায় সহিংসতার বিষয়ে আইজিপি জানান, ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ৩১৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬০৩ জন আহত এবং ৫ জন নিহত হয়েছেন। একটি মৃত্যুও আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চেষ্টা করেছি যেন একটি মৃত্যুও না ঘটে। তবুও বাস্তবতায় কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা আমরা তদন্ত করছি।”
সাম্প্রতিক সময়ে ৩ হাজার অপরাধী ও ৩৫২ জন শুটারের তালিকা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে আইজিপি বলেন, “সংখ্যা ৩ হাজারের বেশি বা কম হতে পারে। তবে ১৮ কোটি মানুষের দেশে এই সংখ্যক অপরাধী নির্বাচন বানচাল করতে পারবে এমন আশঙ্কা নেই।”
তিনি আরও বলেন, কোথাও বিচ্ছিন্ন অপরাধ, ডাকাতি বা হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে, কিন্তু তা পুরো নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো শক্তি নয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইজিপি স্বীকার করেন, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় পুলিশের মধ্যে যে মানসিকতা তৈরি হয়েছিল, তা এক বছরে পুরোপুরি বদলানো সম্ভব হয়নি। তবে আমরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও জানান, ইউনেস্কো ও ইউএনওডিসির সহায়তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণবিষয়ক প্রশিক্ষণ পুলিশ সদস্যদের দেওয়া হচ্ছে।
৫ আগস্টে জেল থেকে পালানো আসামি ও জঙ্গিরা নির্বাচনে কোনো হুমকি তৈরি করছে কি না এ প্রশ্নে আইজিপি বলেন, প্রচারকালীন সময় কিছু আশঙ্কা ছিল। তবে প্রচার শেষ হয়েছে বড় কোনো ঘটনা ছাড়াই। বর্তমানে নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো কোনো শক্তিশালী জঙ্গি হুমকি নেই।
নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে আইজিপি বলেন, “আমরা ইতিহাসে একটি উদাহরণ তৈরি করতে চাই। যাতে এই নির্বাচন হয় শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য। কতটা সফল হলাম, তার মূল্যায়ন করবে দেশবাসী।”
আমার বার্তা/এমই
