নামসর্বস্ব ‘পাশা’র ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড স্থগিত: আজাদ মজুমদার
প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের বেসরকারি সংস্থা পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্টের (পাশা) ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত আছে। এ বিষয়ে আজ রোববার সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ–প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
তিনি বলেন, ‘ইলেকশন কমিশনের সেক্রেটারি এই বিষয়ে আজ মিটিংকে অবহিত করেন। সংবাদে দেখেছেন, পাশা নামে একটা এনজিও ১০ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেবে। ইলেকশন কমিশন থেকে তাদের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছে। তাদের সক্ষমতা সম্পর্কে ইলেকশন কমিশন নিশ্চিত হতে পারেনি।’
আজাদ মজুমদার বলেন, ‘এ জন্য তাদের (পাশা) পর্যবেক্ষক কার্ড বিতরণ করা স্থগিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যাপারে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, ‘এটি আরও তিন দিন আগে চিহ্নিত হয়েছে। গত রাতে কার্ড বিতরণ স্থগিত করা হয়।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে গত ২৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করে। সেই তালিকায় দেখা যায়, পাশা একাই ১০ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এক ব্যক্তিনির্ভর ‘পাশা’ দিচ্ছে ১০ হাজার নির্বাচন পর্যবেক্ষক। পাশার মূল কার্যালয় মূলত সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের এককক্ষের একটি বাসা। লোকবল বলতে তিনি একজনই।
ওইদিন এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, প্রতিবেদনটি একটি চটকদার প্রতিবেদন। তিনটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ও ইসি কর্মকর্তাদের যাচাই-বাছাই শেষে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোকে নিয়োগ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব পর্যবেক্ষক সংস্থার অনুমোদন দিতে নির্বাচন কমিশনের কোনো আইনের ব্যত্যয় হয়নি। এসব পর্যবেক্ষক সংস্থার সক্ষমতা নিয়ে পুনঃতদন্তও হয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, আপাতত আমরা ওদের (পাশা) কার্ড ইস্যু বন্ধ রাখতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বলেছি। আগামীকাল নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
আগে বলেছিলেন পাশার নিয়োগে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি, এখন কেন পাশার কার্ড বিতরণ স্থগিত করা হলো, জানতে চাইলে রুহুল আমিন বলেন, পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন হয়েছে। এটাকে আমরা একটু যাচাই-বাছাই করে দেখতে চেয়েছি। পত্রিকার রিপোর্ট চটকদার ঠিকই আছে। প্রতিবেদন যেহেতু হয়েছে, আমাদের বসে থাকলে চলবে না। যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে।
আমার বার্তা /জেএইচ
