তরল দুধের উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে: উপদেষ্টা ফরিদা
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গুঁড়া দুধ আমদানি করছে। এই অর্থ যদি দেশীয় দুধ উৎপাদন বাড়াতে ব্যয় করা হয়, তাহলে আমদানিনির্ভরতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। গুঁড়া দুধ ব্যবহারের ফলে তরল দুধে ভেজালের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই আমদানি কমিয়ে দেশীয় তরল দুধের উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে সবাইকে উদ্যোগ নিতে হবে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এলাকায় এ কে অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি হাব সংলগ্ন মাঠে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেইরি খাতের উন্নয়ন : সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, চট্টগ্রাম লাল গরুর দেশ। দুধ উৎপাদন তুলনামূলক কম হলেও মাংসের গুণগত মান ও জাতগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে রেড চিটাগাং ক্যাটলের কোনো তুলনা নেই। এই জাত সংরক্ষণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বিদ্যুৎ বিল ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে ফরিদা আখতার বলেন, দীর্ঘ আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল রেয়াত এবং ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি প্রাথমিক উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী এই সহায়তা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
খামারি নিবন্ধনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নিবন্ধন ছাড়া প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। অনলাইনে নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হলে সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে এবং নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।
প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে খামারিরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, উৎপাদনমুখী দল গড়ে উঠেছে এবং ডেইরি কার্যক্রম অনেকের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। অনেক খামারি এখন লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেও ডেইরি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করবে।
নারী, শিশু ও বয়স্কদের পুষ্টির বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দুধ শুধু উৎপাদনের পরিসংখ্যান নয়, মানুষ কতটা দুধ গ্রহণ করছে সেটিও বিবেচ্য। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য দুধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা হাড়ের রোগ ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক। স্কুলে দুধ সরবরাহ কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ তরুণদের দেশ। ডেইরি শিল্পে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার এ খাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেবে। দেশের উন্নয়নের জন্য এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।
সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) মো. শাহজামান খান তুহিন, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিয়ার রহমান এবং এ কে অ্যাগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্মের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেইন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান। এছাড়া প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ডেইরি হাব কার্যক্রমের বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা বিষয়ে উপস্থাপনা এবং তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
আমার বার্তা/এমই
