আ.লীগকে নির্বাচনে আনার প্রশ্নে এবার মুখ খুললেন শারমীন এস মুরশিদ

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনা নিয়ে এবার প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। 

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনাসহ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি।  

আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনা হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগ নিজেকে শুধরে মানুষের সামনে দাঁড়াক। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো দায় নেই আওয়ামী লীগের প্রতি। জনগণের প্রতি তাদের দায় আছে। জনগণকে তারা তাদের দায়মুক্ত করুক, এটা তাদের দায়িত্ব। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।

জনগণের তো ক্ষোভ ছিল, ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হলো কি না— সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেই এক্সপেরিমেন্ট আপনারা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দলকে করতে বলবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের যথেষ্ট মাথাব্যথা আছে।  

শারমীন এস মুরশিদ বলেন, এখানে আওয়ামী লীগকে নিয়ে কোনো ডিবেট নেই এবং কোনো ডিবেট হবে না। আওয়ামী লীগ তার যোগ্যতা প্রমাণ করুক। একটি দল সর্বস্বভাবে তাদের নেতৃবৃন্দ এতগুলো অপরাধ করেছে, সেটার বিচার করুক। আমরা চলে যাবো। আগামী যে সরকার আসবে তাদেরকে বিচার করতে বলুন। আওয়ামী লীগ নিজেকে ধুয়ে মুছে সাফ করে জনগণের সামনে আসুক। জনগণ বলুক যে- হ্যাঁ আমরা এবার আওয়ামী লীগকে ফিরে চাই। এটা আমাদের কাজ না, এটা ভবিষ্যতের কাজ।

উপদেষ্টা আরও বলেন, এই গুম-খুন হয়েছে আওয়ামী লীগের জন্য। এই নারী নির্যাতন হয়েছে আওয়ামী লীগের জন্য। এই কেয়ারটেকার সরকার আমরা হারিয়েছি আওয়ামী লীগের জন্য।  

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আমার জায়গা থেকে, আমার মন্ত্রণালয়ের জায়গা থেকে বারবার বলবো- মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আগামী যে রাজনৈতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করছে, তাদেরকে মেয়েদের-শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদেরকে ব্যক্ত করতে হবে। এখনো তারা সেটা ব্যক্ত করেননি।

শারমীন এস মুরশিদ বলেন, এমনকি রাজনৈতিক দলগুলো মেয়েদেরকে কোনো প্রাধান্যই দেয়নি। ৩০টি দল কোনো প্রতিনিধিই দেয়নি। অথচ হাজার হাজার নারী যুদ্ধে (গণঅভ্যুত্থানে) শামিল ছিলেন। এখন মেয়েরা সব ডাক্তার হয়ে যাচ্ছে, ছেলেরা পাসও করছে না পরীক্ষায়। কথাটা হলো যে মেয়েদেরকে কোনো চ্যারিটি দেওয়ার দরকার নাই। ৫, ২, ৩ শতাংশ- এইভাবে কি তারা যুদ্ধে নেমেছিল? নামেনি তো। তো রাজনৈতিক দলগুলোকে আমাদের অবশ্যই প্রশ্নের সম্মুখীন করতে হবে এবং তাদেরকে মেয়েদের ন্যায্যতা দিতে হবে, সম্মান দিতে হবে এবং তাদের প্রাপ্য দিতে হবে।  

সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশে ৫২ শতাংশ নারী। সেই জায়গাটা আমি শুনতে চাইবো সব রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে। নিশ্চিতভাবে বলে দিতে চাই যে, আমি অন্তত চুপ করে থাকবো না। 


আমার বার্তা/এমই