বাংলাদেশে বয়কটের মুখে ভারতীয় পণ্য

প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  অনলাইন ডেস্ক:

ঢাকায় মানববন্ধনে ভারত বিরোধী প্ল্যাকার্ড

গত ৭ জানুয়ারি দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভারতের হস্তক্ষেপ আছে বলে অভিযোগ উঠে। এর পরপরই বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব দেখা যায় একটি মহলে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইস্টার্ন আইয়ের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এমন তথ্য প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রতিক ‘ইন্ডিয়া আউট’ নামে ভারত বিরোধী এক ধরনের প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সেখানে প্রতিবেশী দেশ ভারতের পণ্যসহ দেশটিকে ‘বয়কট’ করা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্যাম্পেইন চলছে।

আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে ঢাকার অনেক খুচরা বিক্রেতা ভারতীয় পণ্য আর অর্ডার করেননি। কারণ আগের পণ্যগুলোই এখনো বিক্রি করতে পারেননি বলে তারা জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

শুধু মেরিকো নয়, আমুল এবং ডাবরের মতো অন্যান্য বড় বড় কোম্পানিকে গুলোকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় টার্গেট করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।

৭ জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে ২২৩টি আসনে জয়ী হয়ে চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হন। শেখ হাসিনার বিজয়কে স্বাগত জানায় নয়াদিল্লী। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তার মিত্ররা নির্বাচন বয়কট করে। আর এ কারণের এই নির্বাচনের সুষ্ঠু ও বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে বিভিন্ন মহলে।

ইস্টার্ন আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইন্ডিয়া আউট’ নামের ক্যাম্পেইনের প্রধান হিসেবে কাজ করছে ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট নির্বাসিত বাংলাদেশী চিকিৎসক পিনাকী ভট্টাচার্য। জানুয়ারির মাঝামাঝিতে তিনি ‘বয়কট ইন্ডিয়া’ প্রচারাভিযান শুরু করেছিলেন সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার দুই মিলিয়নেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে বলে জানায় ইস্টার্ন আই।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য বয়কটের বিষয়টি সামনে এনে রীতিমতো আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইছেন কেউ কেউ। গণ অধিকার পরিষদের নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর ঢাকায় একাধিক রাজনৈতিক সভায় ভারতীয় পণ্য বর্জনের আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেছেন।

ভারত বিরোধী এমন একটি রাজনৈতিক অবস্থান কেন নিয়েছেন এ প্রশ্নে নুর বলেন, ভারত যদি একপাক্ষিক সম্পর্ক মেইনটেইন করে তাহলেতো আমাদের অ্যান্টি ইন্ডিয়ান হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নাই। জনগণের প্রতি জনগণের একটা শ্রদ্ধা ভালোবাসা সম্মানের সম্পর্ক আমরা সবসময় তৈরি করতে চাই। কিন্তু শাসক পর্যায়ে, নীতি নির্ধারক পর্যায়ে আমরা এই বার্তাটা দিতে চাই যে ভারত যেভাবে বাংলাদেশকে বিশেষ করে গত পনেরো বছর দেখে আসছে এইটা ঠিক না।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকেও রাজনৈতিক সভায় দেয়া বক্তৃতার এক পর্যায়ে ভারত প্রসঙ্গে সমালোচনা করতে দেখা গেছে। তিনি বলছেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক করছে না, একটি দলকে সমর্থন দিচ্ছে। জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক করলে ভারত এই বিবৃতি দিতে পারে না যে বাংলাদেশে নির্বাচিত একটা সরকার হয়েছে। আমরা আশা করবো যেহেতু আমি প্রতিবেশী বদলাতে পারবো না ওরা যত তাড়াতাড়ি বাস্তবটা বুঝতে পারে তত ভালো। আমাদের খুব একটা বেশি ক্ষতি হবে তা কিন্তু আমি মনে করি না। ক্ষতি তাদের হতে পারে।

এই বয়কট দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দেখা যাচ্ছে প্রতি বছর বাংলাদেশে কমপক্ষে ১৪০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে ভারত। দুই দেশের বিভিন্ন বন্দর দিয়ে এসব পণ্য সামগ্রী আসে দেশের বাজারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশের সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার সাংবাদিকদের স্পষ্ট করেই বলেছেন, ভারত বিরোধী এই অবস্থানের কারণে ভারতের সাথে কোনো টানাপোড়েন হবে বলে তারা মনে করেন না।