বয়সের সঙ্গে বাড়ছে কোষ্ঠকাঠিন্য, নিয়ন্ত্রণে করণীয়

প্রকাশ : ১৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

  অনলাইন ডেস্ক:

কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। পায়খানা কষা বা শক্ত হওয়াকেই মূলত কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়। অনেকেরই মাঝে মাঝে পায়খানা খুব শক্ত হয়ে যায়, মলত্যাগের সময় অনেকক্ষণ কসরত করতে হয়। পায়খানার পর মনে হয় পেট ঠিকমতো পরিষ্কার হয়নি। বয়সের সঙ্গে এই সমস্যা আরও বাড়তে থাকে।

কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়?

কোষ্ঠকাঠিন্যে সৃষ্টির পেছনে অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে। এই স্বাস্থ্য সমস্যাটির জন্য আপাত দৃষ্টিতে যেসব কারণকে দায়ী করা যেতে পারে তা হলো-


    জাঙ্ক ফুড খাওয়া
    পানি কম পান করা
    অ্যালকোহল সেবন
    অতিরিক্ত খাওয়া
    ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়া
    ধূমপান
    অতিরিক্ত মাংস খাওয়া
    মলত্যাগের তাগিদ উপেক্ষা করা
    ব্যায়াম না করা

সময়মতো কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসা না করালে পরবর্তীতে পাইলসের মতো মারাত্মক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে অন্য রোগের সম্পর্ক

দিল্লির চিরাগ এনক্লেভের অ্যাপোলো স্পেকট্রার গ্যাস্ট্রোলজিস্ট ডা. পল্লবী গর্গের মতে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে অন্যান্য রোগেরও সম্পর্ক রয়েছে। হাইপোথাইরয়েডিজম, ডায়াবেটিস, ইউরেমিয়া ও হাইপারক্যালসেমিয়ার মতো কিছু কিছু রোগের ওষুধের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়। আবার কোলোরেক্টাল ক্যানসার, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস), ডাইভার্টিকুলাইটিস, কিছু স্নায়বিক রোগ যেমন স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, পারকিনসন্স ডিজিজ এবং স্ট্রোকও অন্ত্রের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। অ্যামাইলয়েডোসিস, লুপাস এবং স্ক্লেরোডার্মা মতো রোগগুলো সরাসরি কোষ্ঠকাঠিন্যের সঙ্গে যুক্ত।

এই চিকিৎসকের মতে, কিছু ওষুধ, যেমন ব্যথা উপশমকারী এবং আয়রন ট্যাবলেট ইত্যাদি কোষ্ঠকাঠিন্যকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ কী?

ডা. পল্লবীর মতে, কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণগুলো সনাক্ত করে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর কিছু প্রাথমিক লক্ষণ হলো- কদাচিৎ মলত্যাগ, মলত্যাগের সময় স্ট্রেনিং, পেটে অস্বস্তি এবং ফোলাভাব

কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণে করণীয়

এই চিকিৎসকের মতে, দৈনন্দিন জীবনে সামঞ্জস্য রেখে চলা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার মাধ্যমে সহজেই কোষ্ঠকাঠিন্যকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। রোজকার খাদ্যতালিকায় ফল, শাকসবজি এবং গোটা শস্য রাখা উচিত। এসব খাবার নিয়মিত মলত্যাগে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। কারণ পানি মল নরম করতে এবং হজমে সাহায্য করে। পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক চর্চা করলে অন্ত্রের কাজ এবং হজম ভালো হয়।

সঠিক মাত্রায় সুষম খাদ্য গ্রহণ, হাইড্রেটেড থাকা এবং একটি সক্রিয় জীবনধারা গ্রহণ করার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে পারে। সমস্যাটি অবহেলা করবে না। প্রয়োজনে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


আমার বার্তা/জেএইচ