পদ্মা আর গুজরাটের ইলিশের পার্থক্য বুঝবেন যেভাবে
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৩১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

বাঙালি আর ইলিশ এ যেন এক অবিচ্ছেদ্য ভালোবাসা। যেকোনো বাঙালি উৎসবে এই পদ্মার ইলিশের কোনো তুলনা নেই। কিন্তু সাধের বাজারে পদ্মার আসল রুপালি ইলিশ কিনতে গিয়ে অনেকেই প্রতারিত হচ্ছেন গুজরাটের ইলিশের কাছে। দূর থেকে দেখতে প্রায় এক হলেও স্বাদ, ঘ্রাণ আর তৃপ্তিতে এই দুই মাছের মধ্যে রয়েছে আকাশ পাতাল। আসুন জেনে নিই কীভাবে চিনবেন পদ্মার ইলিশ-
শারীরিক গঠন ও আকৃতি
মাছের বাহ্যিক গঠন দেখে এই দুই ইলিশের পার্থক্য সবচেয়ে সহজে বোঝা যায়। পদ্মার মিষ্টি পানির ইলিশ সাধারণত আকারে কিছুটা খাটো কিন্তু মাঝের অংশ বেশ গোলগাল, চওড়া ও ভরাট হয়ে থাকে। এর পিঠের অংশ কিছুটা উঁচু এবং লেজের দিকটি পুরু হয়। অন্যদিকে, ভারতের গুজরাটের ভারুচ বা পশ্চিম উপকূল থেকে আসা ইলিশগুলো সাধারণত সামুদ্রিক বা নোনা পানির হয়ে থাকে। এই মাছগুলো দেখতে বেশ লম্বাটে ও সরু প্রকৃতির হয় এবং এদের পেট বা মাঝের অংশ নদীর মাছের মতো অতটা ভরাট বা ফোলা থাকে না।
চোখের অবস্থা ও রঙ
বাজারে মাছ কেনার সময় চোখের দিকে নজর দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল। টাটকা ও আসল পদ্মার ইলিশের চোখ সবসময় পরিষ্কার, স্বচ্ছ এবং উজ্জ্বল দেখাবে। এর বিপরীতে, গুজরাট থেকে আসা ইলিশগুলো দূরপাল্লার পথ পাড়ি দিয়ে বরফজাত অবস্থায় বাজারে পৌঁছায়। দীর্ঘ সময় বরফে থাকার কারণে এবং সামুদ্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য গুজরাটের ইলিশের চোখের চারপাশ কিছুটা কালচে লাল বা রক্তবর্ণ ধারণ করে।
গায়ের রঙ ও আঁশের উজ্জ্বলতা
উভয় মাছের গায়ের রঙ রুপালি হলেও এদের উজ্জ্বলতায় তফাত থাকে। পদ্মার ইলিশের আঁশ অত্যন্ত চকচকে রুপালি রঙের হয় এবং আলো পড়লে পিঠের দিকে হালকা সোনালি বা বেগুনি আভার ঝিলিক দেখা যায়। শরীরের ঠিক মাঝখান দিয়ে একটি হালকা লালচে রেখা স্পষ্ট থাকে। তবে গুজরাটের ইলিশের ক্ষেত্রে রুপালি ভাব থাকলেও পিঠের অংশটি তুলনামূলক বেশি কালচে বা ধূসর দেখায় এবং নদীর তাজা মাছের মতো সেই চেনা রুপালি-সোনালি উজ্জ্বল ভাব থাকে না।
স্বাদ, সুবাস ও তেল
ইলিশের আসল আকর্ষণ লুকিয়ে থাকে এর স্বাদ ও ঘ্রাণে। নদীর মিষ্টি পানিতে সাঁতার কাটার কারণে পদ্মার ইলিশের শরীরে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক তেল জমা হয়, যা মাছের মাংসকে অত্যন্ত নরম ও তুলতুলে করে তোলে। এই মাছ রান্নার সময় যে মনমাতানো সুবাস ছড়ায়, তাতেই আসল পদ্মার ইলিশের পরিচয় পাওয়া যায়। অপরদিকে, সামুদ্রিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে গুজরাটের ইলিশের মাংস কিছুটা শক্ত প্রকৃতির হয়। এর স্বাদ তুলনামূলকভাবে পানসে বা ব্লান্ড লাগে এবং রান্নার সময় পদ্মার মাছের মতো সেই চিরচেনা ঘ্রাণ পাওয়া যায় না।
দাম দেখেও আপনি আসল নকলের বড় একটি ধারণা পেতে পারেন। পদ্মার ইলিশের চাহিদা আকাশচুম্বী এবং এর আমদানি বা সরবরাহ সীমিত হওয়ায় বাজারে এর দাম সবসময় বেশ চড়া থাকে। বিক্রেতারা প্রায়ই কম দামি গুজরাটি বা সামুদ্রিক ইলিশকে পদ্মার মাছ বলে বেশি দামে বিক্রি করার চেষ্টা করেন। তবে মাথায় রাখবেন, যদি বাজারে তুলনামূলক কম দামে বড় আকারের ইলিশ পান, তবে সেটি পদ্মার হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তা মূলত গুজরাট বা অন্য কোনো সামুদ্রিক উৎস থেকে আসা মাছ।
