কলকাতায় আগুনে ৯ জনের প্রাণহানি: সেই হোটেলের ইজারাদার গ্রেপ্তার
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

কলকাতার নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল ‘শিখা ইন’-এ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ইজারাদার আবু জাফর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে এন্টালি মার্কেট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়েছে তাকে। কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার এ খবর জানিয়েছে।
সূত্রের খবর, হোটেল ‘শিখা ইন’ আবু জাফরের নামেই ইজারা নেওয়া হয়েছিল। তিনি জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা। তবে হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্রের এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি।
আনন্দবাজার জানিয়েছে, আবু জাফর ছাড়াও এ ঘটনায় আরও দুই জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের নাম-পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে সূত্রের খবর, আটক দুই জনের মধ্যে কাছের হোটেল ‘যাপন’-এর একজন কর্মী রয়েছেন। এই হোটেলটির মালিকও বীরেশ্বর মিত্র।
অগ্নিকাণ্ডের পর মির্জা গালিব স্ট্রিটের ৯টি হোটেল ও ৪টি রেস্তোরাঁকে নিরাপত্তাবিধি না মানার অভিযোগে শো-কজ করেছে দমকল দফতর। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মির্জা গালিব স্ট্রিটের পাঁচতলা একটি ভবনে একাধিক হোটেল ও অতিথিনিবাস চলছিল। অভিযোগ, ভবনটির হোটেলগুলোতে ছিল একাধিক ঘুপচি ঘর। এর তৃতীয় তলায় ১১০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে চলছিল ‘শিখা ইন’। দুই কামরার একটি ফ্ল্যাটের সমান জায়গায় সেখানে ছিল পাঁচটি খুপরি ঘর।
মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই হোটেলে আগুন লাগে। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান ৯ জন। তাদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন বাংলাদেশি। দমকলের সদর দফতর থেকে অল্প দূরত্বে এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে। অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে বুধবারই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে লালবাজার। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ওই দলই পরে শিখা ইনের ইজারাদার আবু জাফরকে আটক করে।
অভিযোগ উঠেছে, শিখা ইনসহ ওই ভবনে চলা হোটেলগুলো প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাবিধি না মেনেই গড়ে উঠেছিল। আবাসিক ভবনকে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই অগ্নিকাণ্ডের জন্য পূর্বের সরকারের ‘অবহেলাকে’ দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, আগের সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে এসব বিষয় থেকে নজর ঘুরিয়ে রেখেছিল।
