যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্যায় ৬ জনের মৃত্যু
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপশ্চিমাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য ইন্ডিয়ানায় এক শক্তিশালী ঝড় ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) স্থানীয় রাজ্য কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও নজিরবিহীন বন্যায় ঘরবাড়িতে পানি উঠার পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে জরুরি সেবা প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানান যায়।
এনবিসি নিউজের ড্রোন ফুটেজে দেখা যায়, ইন্ডিয়ানাপোলিসের র্যাভেনউড এলাকার সড়কগুলো ঘোলাটে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাসাবাড়ির সামনের দরজা পর্যন্ত পানি ওঠায় বাসিন্দারা কায়াক ও ছোট নৌকায় করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছেন। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বহু গাড়ি পানির নিচে পুরোপুরি নিমজ্জিত রয়েছে।
ইন্ডিয়ানার গভর্নর মাইক ব্রাউন এক বিবৃতিতে শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘ঝড়ে প্রাণ হারানো আমাদের নাগরিকদের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। সবাই অনুগ্রহ করে বন্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিন এবং প্লাবিত এলাকা থেকে দূরে থাকুন।’
তিনি আরও জানান, শহরটিতে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত না হলেও হোয়াইট নদীর উচ্চ অববাহিকায় প্রায় ৬ থেকে ১২ ইঞ্চি বৃষ্টিপাতের কারণে সেই পানি গড়িয়ে নিচে নেমে এসে ইন্ডিয়ানাপোলিস প্লাবিত করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় ও ন্যাশনাল গার্ডের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র রিতা রিথ জানান, হোয়াইট নদীর আশেপাশের এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৯১ জন মানুষ ও ৪৫টি পোষা প্রাণীকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। মারিয়ন কাউন্টির জরুরি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পরিচালক জ্যাকব স্পেন্স এই বন্যাকে শতাব্দীর অন্যতম রেকর্ড সৃষ্টিকারী প্রলয়ঙ্করী ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সংবাদমাধ্যম জানায়, ডেলওয়ার কাউন্টিতে পানিতে ভেসে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে এক ৫৮ বছর বয়সী নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া জেনিংস, হোয়াইট, পোর্টার ও লা পোর্টে কাউন্টিতে পৃথক চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ইন্ডিয়ানার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ।
জাতীয় আবহাওয়া সংস্থার তথ্যমতে, কিছু এলাকায় ৪৮ ঘণ্টায় ১১ ইঞ্চির বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অ্যান্ডারসন ও নোবেলেসভিল এলাকায় হোয়াইট নদীর পানি ২৪ ফুটের বেশি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা ১৯১৩ সালের তৈরি করা ঐতিহাসিক রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ।
