আফগানিস্তানে ২৪ লাখ মেয়ের স্কুল-শিক্ষায় বাধা
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৩১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

২০২১ সালে তালেবান গোষ্ঠী ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে আফগানিস্তানে প্রায় ২৪ লাখ মেয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।
সংস্থাটি মনে করে, তালেবান গোষ্ঠী ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পরও আফগানিস্তানে এত নারী শিশুর শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি সমাজ ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সে প্রভাব হবে দীর্ঘস্থায়ী।
ইউনেস্কোর তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে মাধ্যমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত মেয়ের সংখ্যা এ বছর প্রায় ২ লাখ বেড়েছে৷ মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট সংখ্যা ২৪ লাখ থেকে বেড়ে প্রায় ৪০ লাখ হয়ে যেতে পারে।
এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইউনেস্কোর ‘জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষা' বিষয়ক কর্মসূচির সমন্বয়কারী হোদা জাবেরিয়ান বলেন, “বিশ্বে আফগানিস্তানই বিশ্বের একমাত্র, যেখানে মেয়ে ও নারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে৷'' তিনি আরো বলেন, ‘‘একটি শিশুর শিক্ষার ক্ষেত্রে পাঁচ বছর সাময়িক বিরতি নয়। এই সময়টা পরিষ্কারভাবেই মাধ্যমিক শিক্ষার প্রায় পুরো একটি পর্যায়ের সমান৷”
‘লিঙ্গভিত্তিক বর্ণবাদ'
দুই দশক ধরে চলা যুদ্ধের এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান থেকে সরে এলে ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট ক্ষমতা দখল করে তালেবান। শুরুতে নারীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে দেওয়া হবে – আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তালেবান সরকার এমন আশ্বাস দিলেও ২০২২ সালের মার্চে মেয়েদের জন্য মাধ্যমিক স্কুল-শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়। নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়াতেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় ওই বছরের ডিসেম্বরে৷ দুটি সিদ্ধান্তকেই তখন ‘সাময়িক' পদক্ষেপ বলা হলেও এখনো সেগুলো প্রত্যাহার করেনি তালেবান সরকার।
তালেবান কর্তৃপক্ষের দাবি, ইসলামি আইন ও আফগান সংস্কৃতির নিজস্ব ব্যাখ্যার আলোকে তারা নারীদের অধিকারকে সম্মান করে।
উল্লেখ্য, তালেবানের নিষেধাজ্ঞাগুলো কেবল মেয়ে এবং নারীদের শিক্ষাতেই সীমাবদ্ধ নয়। কর্মসংস্থান ও চলাফেরার ক্ষেত্রেও নারীদের সীমাবদ্ধতা অনেক বেড়েছে৷ আফগানিস্তানের পাবলিক পার্ক, জিম ও বিউটি স্যালনেও এখন নারীদের প্রবেশ নিষেধ।
নিষেধাজ্ঞার এই সামগ্রিক ব্যবস্থাকে ‘লিঙ্গভিত্তিক বর্ণবাদ' হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ। ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর হয়ে গেলেও তালেবান প্রশাসনকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে একটি মাত্র দেশ – রাশিয়া।
