ভারতে যাত্রা শুরু প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের, উদ্বোধন করলেন মোদি

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৩:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ভারতীয় রেলের ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। আজ ১৭ জুলাই শুক্রবার দেশটির প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

গত ২২ মে এই ট্রেনে যাত্রী পরিবহণের অনুমোদন দিয়েছিল ভারতের রেল বিভাগের নীতি নির্ধারনীয় সংস্থা ইন্ডিয়ান রেল বোর্ড (আইআরবি)। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন–চালিত ব্রডগেজ ট্রেন হতে চলেছে। হয়েছিল ট্রায়াল রানও। এ বার যাত্রী নিয়ে ট্র্যাকে ছুটবে ট্রেন।

হাইড্রোজেনকে বিশ্বের অন্যতম ‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ হিসেবে বিবেচনা। তাই এই পরিবেশবান্ধব জ্বালানি পরিবহণের জগতকে এক নতুন দিশার দিকে নিয়ে যাবে  বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

হাইড্রোজেন থেকে তৈরি হয় বিদ্যুৎ। তা দিয়েই ছুটবে ট্রেন। এই প্রক্রিয়ায় কোনও ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয় না, বের হয় শুধু জলীয় বাষ্প। কার্বন নিঃসরণও প্রায় শূন্যের কোঠায়। এসব কারণেই বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে জীবাশ্ম জ্বালানির জায়গায় ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান শক্ত করছে হাইড্রোজেন জ্বালানি।

জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও চিনের মতো দেশে ট্রেন-বাস চলছে হাইড্রোজেনে। এ বার এই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে ভারতের নাম। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে এই হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। রেল বোর্ডের তরফে এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘Hydrogen for Heritage’।

কোন কোন রুটে চলবে হাইড্রোজেন ট্রেন

হরিয়ানা রাজ্যের জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার রুটে চলবে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। পথে পান্ডু পিন্দারা জংশন, ললিত খেরা হল্ট, ভামভেওয়া, ইসাপুর খেরি হল্ট, বুটানা হল্ট, খান্দরাই হল্ট, রাবরাহ হল্ট, লাথ হল্ট, মোহানা এবং বারওয়াসনি হল্টসহ একাধিক স্টেশনে থামবে। ভারতীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, এই রুটে যাত্রা সফল হলে হরিয়ানার কালকা শহর থেকে হিমাচল রাজ্যের রাজধানী শিমলা রুটেও চালু হতে পারে এ ট্রেন।

কত হবে ট্রেনের গতি?

ভারতীয় রেল বিভাগ জানিয়েছে, নতুন ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার। তবে ২৪০০ কিলোওয়াটের ইঞ্জিন নিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫ কিমি বেগে ছুটবে এই ট্রেন।  সর্বোচ্চ গতি জিন্দে হাইড্রোজেল রিফুয়েলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি ভরা হবে।

তবে শুধু গতি নয়, ট্রেনের নকশা ও পরিষেবাতেও রয়েছে চমক। থাকছে দু’টি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার এবং আটটি যাত্রিবাহী কোচ। ২,৬০০ জন যাত্রী নিয়ে মোট কোচগুলো ছুটবে।

প্রতিটি পাওয়ার কারে থাকছে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল, লিথিয়াম আয়রন ফসফেট ব্যাটারি এবং হাইড্রোজেন সংরক্ষণের বিশেষ সিলিন্ডার। পাওয়ার কারগুলো ১,২০০ কিলোওয়াট (প্রায় ১,৬০০ হর্সপাওয়ার) শক্তি উৎপাদনে সক্ষম।

নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। থাকছে হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর, আগুন লাগলে শনাক্ত করবে ফ্লেম ডিটেক্টর। পাশাপাশি থাকছে ধোঁয়া ও তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও। ২৪ ঘণ্টা নজরদারি মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমেও ট্রেনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের উপর সারাক্ষণ নজর রাখা হবে, যাতে কোনও ধরনের সমস্যা দেখা দিলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

ভারতের কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রণালয়ের অধীন গবেষণা, উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত মান নির্ধারনী সংস্থা রিসার্চ ডিজ়াইন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজে়শনের (আরডিএসও) তৈরি নকশায় সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি হয়েছে এই ট্রেন। এই ট্রেন চালুর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ‘গ্রিন অ্যানার্জি’র ব্যবহার এবং কার্বন নিঃসরণ শূন্যমাত্রায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে ভারত এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে, এই সময়