বিবিসির অনুসন্ধান
ভারতে ইনস্টাগ্রামের আড়ালে ভয়াবহ অন্ধকার জগৎ
প্রকাশ : ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৪২ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতনের কনটেন্ট বিক্রির বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়ছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের এক অনুসন্ধানে। তদন্তে দেখা যায়, এসব বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেলে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে অল্প টাকার বিনিময়ে অবৈধ কনটেন্ট বিক্রির প্রস্তাব দেওয়া হয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।
বিবিসির অনুসন্ধানে জানা যায়, ভারতে একটি ছদ্মনামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট খুলে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট অনুসরণ করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই ওই অ্যাকাউন্টে প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফির পাশাপাশি শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত কনটেন্টের বিজ্ঞাপন দেখা যায়। এসব বিজ্ঞাপনে টেলিগ্রাম চ্যানেলের লিংকও যুক্ত ছিল।
বিবিসি একটি বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রামে রিপোর্ট করলে প্রথমে মেটার স্বয়ংক্রিয় পর্যালোচনা ব্যবস্থা জানায়, সেটি তাদের কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘন করেনি। তবে পরবর্তীতে অনুসন্ধানের পর মেটা একাধিক বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলে, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট স্থগিত করে এবং কিছু ক্ষতিকর লিংক ব্লক করে।
মেটা এক বিবৃতিতে জানায়, শিশুদের যৌন শোষণ একটি জঘন্য অপরাধ এবং এ ধরনের কনটেন্টের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোম্পানির দাবি, তাদের পর্যালোচনা ব্যবস্থা শতভাগ নির্ভুল নয় এবং নীতিমালা লঙ্ঘনের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০২৫ সালে সন্দেহজনক আচরণের কারণে ৪০ লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলেও তারা জানায়।
টেলিগ্রাম জানিয়েছে, চলতি বছরে শিশু যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ২ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি গ্রুপ ও চ্যানেল সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বিবিসির অভিযোগ করা দুটি চ্যানেলের মধ্যে একটি বন্ধ হলেও অন্যটিতে নতুন কনটেন্ট প্রকাশ অব্যাহত ছিল।
বিবিসির অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, পরীক্ষামূলক অ্যাকাউন্টটিতে প্রায় ৩০টি শিশু যৌন নির্যাতনের বিজ্ঞাপন এবং প্রায় ২০টি প্রাপ্তবয়স্ক পর্নোগ্রাফির বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছিল।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মদন লোকুর এ ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেন, কোনো প্ল্যাটফর্ম যদি অপরাধমূলক কনটেন্ট থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়, তবে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিষয়টি আমলে নিতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ফেসবুকের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান বোল্যান্ড বলেন, ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম আরও চরম ও প্রলুব্ধকর কনটেন্ট সামনে নিয়ে আসে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এমন অপব্যবহারের ঝুঁকি থেকেই যায়।
আমার বার্তা /জেএইচ
