যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে শঙ্কিত ইসরায়েলিরা
প্রকাশ : ১৪ জুন ২০২৬, ১১:১৩ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কয়েকদিনের মধ্যে চুক্তি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে শঙ্কিত ইসরায়েলিরা। তাদের আশঙ্কা এ মুহূর্তে যে চুক্তি হতে যাচ্ছে এটি ইরানকে আরও শক্তিশালী করবে।
ইসরায়েলের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর এবং সেগুলোতে লেখা কলামে এ শঙ্কা ফুটে উঠেছে। ইসরায়েলিরা এ চুক্তি নিয়ে নিজেদের হতাশা প্রকাশ করেছেন।
আজ রোববার (১৪ জুন) প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম মারিভে ইসরায়েলি কলামিস্ট বেন কাসপিট লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধগুলোতে জয় পেয়েছেন। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে বিস্তৃত সংগ্রামে পরাজিত হয়েছেন।
কাসপিট তার কলামে বলেছেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিরুদ্ধে আমরা যে সামরিক বিজয়গুলো অর্জন করেছি, তার চেয়েও শক্তিশালী একমাত্র ঘটনাটি হলো—এর ঠিক পরপরই তাদের বিরুদ্ধে আমাদের রাজনৈতিক পরাজয়।”
মারিভের আরেক কলামিস্ট আভি আস্কেনজাই লিখেছেন, গত কয়েকদিন ধরে চুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু ইসরায়েল এটির রূপরেখা তৈরিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেছেন, “রাজনৈতিক মহলের ব্যর্থতার কারণেই এই চুক্তির বিষয়বস্তুর ওপর কোনো ধরনের প্রভাব খাটাতে পারেনি ইসরায়েল।”
অপর সংবাদমাধ্যম ইয়েনেত জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় ইসরায়েলের প্রভাব বিস্তারের যে অভাব রয়েছে সেটি নিয়ে ইসরায়েলিরা উদ্বিগ্ন। ইসরায়েলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা ইয়েনেতকে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য অস্বস্তিকর। তিনি সম্ভাব্য চুক্তিকে ‘খারাপ চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলের আরেক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজে কলামিস্ট জাভি বারেল লিখেছেন, শক্তিশালী অবস্থানে থেকে ইরান আলোচনার টেবিলে এসেছে। তাদের কাছে রয়েছে প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার। যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলেছে। এরফলে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলে চুক্তি আদায় করার নীতি থেকে সরে আসতে হয়েছে।
তার মতে, আগে ইরানের কৌশল ছিল শুধুমাত্র টিকে থাকা। সেই অবস্থান থেকে সরে এখন তারা নতুন করে আবারও আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নিজেদের জাহির করছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আমার বার্তা /জেএইচ
