চীন ও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত: শি জিনপিং
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ১০:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে তিনি দুই দেশকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শি জিনপিং বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও বিশ্বে স্থিতিশীলতা আনতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার পথ বেছে নিতে হবে। সূত্র: বিবিসি।
চীনের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে সূচনা বক্তব্যে শি জিনপিং ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বলেন, দুই দেশের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হওয়া।
চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পুরো বিশ্ব আমাদের এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে। বিশ্ব এখন এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি থুসিডাইডিসের ফাঁদ অতিক্রম করে সম্পর্কের একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারবে? আমরা কি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো একসঙ্গে মোকাবিলা করতে পারব এবং বিশ্বের জন্য আরো স্থিতিশীলতা আনতে পারব? আমাদের দুই দেশের জনগণ, বিশ্ব এবং মানবজাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে আমরা কি একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব?
‘এগুলো ইতিহাস, বিশ্ব এবং মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এগুলো আমাদের সময়ের প্রশ্ন, যার উত্তর আমাদের দুই দেশের নেতাদেরই দিতে হবে।’
ট্রাম্প ও যুক্তরাষ্ট্রকে দেশটির স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকীতে অভিনন্দন জানান শি জিনপিং।
চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি সবসময় বিশ্বাস করি, আমাদের দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ দ্বন্দ্বের চেয়ে বেশি। এক দেশের সাফল্য অন্য দেশের জন্য সুযোগ তৈরি করে, এবং স্থিতিশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিশ্ব শান্তির জন্যও উপকারী।’
শি জিনপিং বলেন, ‘চীন ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই সহযোগিতা থেকে লাভবান হয়, আর বিরোধ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হওয়া। একে অপরের সাফল্য ও সমৃদ্ধিতে সহায়তা করা এবং নতুন যুগে বড় দেশগুলোর সম্পর্কের সঠিক পথ খুঁজে বের করা।’
চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার অপেক্ষায় আছেন এবং একসঙ্গে কাজ করে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বৃহৎ জাহাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে চান, যাতে ২০২৬ সাল একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে ওঠে এবং সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।’
এর আগে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ট্রাম্পের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়।
গতকাল বুধবার রাতে বেইজিংয়ে পৌঁছান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। এর আগে সর্বশেষ তিনি চীন সফরে গিয়েছিলেন ২০১৭ সালে, নিজের প্রথম মেয়াদে। গতকাল ট্রাম্পকে লালগালিচায় বরণ করে নিতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা।
বিমানবন্দর ছাড়ার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরাই দুই পরাশক্তি। সামরিক শক্তির দিক থেকে আমরাই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ।’
