যুদ্ধ থেকে বের হতে মরিয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প, ছাড় দিচ্ছে না ইরান

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যত একটি ব্যয়বহুল যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন। তবে তেহরান তাকে এই কূটনৈতিক জয় সহজে উপহার দিতে রাজি নয় বলে মনে হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ খবর জানিয়েছে।

ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শুরু করা এই সংঘাত অবসানের জন্য ট্রাম্পের ব্যবসায়িক ঘরানার প্রতিনিধিরা বড় ধরনের চুক্তির চেষ্টা করছেন। কিন্তু ইরানের পদ্ধতিগত ও আপসহীন কূটনীতিকদের সঙ্গে এই দরকষাকষি মোটেও সহজ হচ্ছে না। তেহরান তাদের শত্রু হিসেবে দেখছে এবং দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তান যাওয়ার কথা ছিল ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। ট্রাম্প এ নিয়ে আশাবাদী থাকলেও ইরান আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে অস্বীকার করে, যার ফলে ভ্যান্স আর পাকিস্তানে যাননি।

বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় আরব মিত্ররা ইরানের সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কা থাকায় ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধে বিপর্যস্ত ইরানের নেতৃত্ব এখন ‘বিভক্ত’ এবং তাদের প্রস্তাব তৈরির জন্য সময় প্রয়োজন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটি নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ারই ইঙ্গিত। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো অ্যালেক্স ভাটানকা বলেন, ‘ট্রাম্প চাইলে আরও বেপরোয়া সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারতেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি নিজেকে আরও গভীর গর্তে ফেলার পথ বন্ধ করেছেন।’

ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধ রাজনৈতিকভাবে বিপর্যয়কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামরিক হস্তক্ষেপ পরিহারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও, এই যুদ্ধের কারণে খোদ রিপাবলিকান ঘাঁটি থেকেই তিনি বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। ইরান পাল্টা জবাবে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেলের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে, যার ফলে মার্কিন নির্বাচনের আগে সাধারণ ভোক্তাদের তেলের দামের জন্য চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে।

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা ও আটলান্টিক কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ ড্যানি সিট্রিনোউইজ বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির শিকার হওয়া সত্ত্বেও ইরানের ধর্মীয় সরকার পতনের দ্বারপ্রান্তে নেই এবং তারা আত্মসমর্পণ করবে না। ট্রাম্প এই সংঘাত বাড়াতে চান না। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প এই যুদ্ধে বিরক্ত। তিনি বুঝতে পেরেছেন, যুদ্ধের খরচ কেবল বাড়বে, কমবে না।’

ইরানি নেতারা ট্রাম্পের ওপর গভীরভাবে সন্দিহান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কয়েক দিন আগেও উভয় পক্ষ চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করছিল। ট্রাম্প এবং ইরানের শাসকগোষ্ঠী উভয়ই পিছু হটার ধারণার প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল।

অ্যালেক্স ভাটানকা মনে করেন, যুদ্ধবিরতির সময় নৌ-অবরোধ বহাল রেখে ট্রাম্প ইরানকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প নিজের কূটনীতিকে দুর্বল করছেন কেবল শক্তিশালী দেখানোর জন্য।’ ভাটানকার মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে অবরোধ বজায় রেখেও তা কঠোরভাবে প্রয়োগ না করার মাধ্যমে একটি বেরিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে পারত। তবে ইরান যদি পুরোপুরি প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবিতে অটল থাকে, তবে তারা চুক্তির চেয়ে বাহ্যিক প্রদর্শনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে ধরে নেওয়া যায়।

ট্রাম্প এখনও অবরোধ শিথিলের কোনও ইঙ্গিত দেননি। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে তিনি বুঝেছেন যে এই অবরোধ কেবল বজায় থাকবে না, বরং তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে প্রগ্রেসিভ সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির জ্যেষ্ঠ ফেলো সিনা তুসি মনে করেন, ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ আছে। অবরোধ তুলে নেওয়া, যা ইরানকে তাদের অর্জিত সুবিধা বুঝিয়ে দেবে; অথবা অবরোধ বজায় রাখা, যা যুদ্ধবিরতি ভাঙার ঝুঁকি তৈরি করবে।

তুসি বলেন, ‘তেহরানের বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি হলো, সময় তাদের পক্ষে। তাদের ধারণা, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ক্রমশ চাপ বাড়াবে।’


আমার বার্তা/এমই