ওমান সাগরে ইরানি জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধের চরম উত্তেজনা
প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫১ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন

ওমান সাগরে ইরানি পতাকাবাহী একটি বিশাল মালবাহী জাহাজ জব্দ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনাকে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ এবং যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ‘টুসকা’ নামক ইরানি জাহাজটি মার্কিন নৌ-অবরোধ অমান্য করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। প্রায় ৯০০ ফুট দীর্ঘ এবং একটি বিমানবাহী রণতরীর সমান ওজনের জাহাজটিকে থামার জন্য বারবার সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও তারা তা অগ্রাহ্য করে। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে গোলাবর্ষণ করে সেটিকে মাঝপথেই থামিয়ে দেয়। জাহাজটি বর্তমানে মার্কিন পূর্ণ হেফাজতে আছে এবং এর ভেতরে কী আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইরানের সামরিক সদরদপ্তর ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী ওমান সাগরের জলসীমায় ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়ে এর নেভিগেশন সিস্টেম অকেজো করে দিয়েছে। এরপর মার্কিন মেরিন সেনারা জোরপূর্বক জাহাজে আরোহণ করে। ইরানি সশস্ত্র বাহিনী এই ঘটনাকে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, এর জবাব এবং প্রতিশোধ শিগগিরই নেওয়া হবে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, মার্কিন অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় তারা কোনো আলোচনায় বসবে না।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প। এই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে ইরান এই আলোচনায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি এখনও নিশ্চিত করেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, আলোচনার খবর সত্য নয়। ওয়াশিংটনের 'অতিরিক্ত দাবি' এবং 'হুমকিমূলক বক্তব্য' আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করছে বলে তাদের দাবি।
বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী বর্তমানে কার্যত বন্ধ রয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত এই রুট খুলবে না। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই দ্বিপাক্ষিক সংঘাতের পর বর্তমানে একটি যুদ্ধবিরতি চললেও এর মেয়াদ আগামী বুধবার শেষ হতে চলেছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন যে, তেহরান যদি শান্তি চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে তিনি ইরানের প্রতিটি সেতু এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করে দেবেন। অন্যদিকে, ভারত, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের জাহাজেও হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে আছে। - সূত্র: বিবিসি
